কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দীর্ঘ নাটকীয়তার পর অবশেষে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। কয়েক মাস ধরে হাউস ওভারসাইট কমিটির সমন উপেক্ষা করার পর, তাঁদের বিরুদ্ধে যখন ‘কংগ্রেস অবমাননা’র ফৌজদারি অভিযোগ দায়েরের ভোট হওয়ার কথা ছিল, ঠিক তার কয়েক দিন আগেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিলেন ক্লিনটন দম্পতি।
হাউস ওভারসাইট কমিটি, যারা সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও ক্ষমতা অপব্যবহারের তদন্ত করে থাকে, তারা বেশ কয়েক মাস ধরেই ক্লিনটন দম্পতিকে তলব করছিল। এর আগে তারা কমিটিতে হাজিরা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। ক্লিনটন দম্পতির দাবি ছিল, এপস্টেইন বিষয়ে তাঁদের কাছে থাকা সব তথ্য আগেই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশিত ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ একটি চাল। তবে ফৌজদারি মামলার মুখে পড়ার ঝুঁকি এড়াতেই তাঁরা শেষপর্যন্ত নতি স্বীকার করলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং জেফ্রি এপস্টেইনের সখ্যতার বিষয়টি দীর্ঘদিনের পুরনো। এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ক্লিনটনের ভ্রমণের একাধিক প্রমাণ থাকলেও তিনি বরাবরই দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। এমনকি প্রায় দুই দশক আগেই তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন বলে দাবি করেন। ২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর এই নথিগুলো প্রকাশের দাবি আরও জোরালো হয়।
ক্লিনটন দম্পতির এই সাক্ষ্যদান হবে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। যদি বিল ক্লিনটন সরাসরি হাজির হন, তবে ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর তিনিই হবেন প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি কংগ্রেসের কোনো কমিটির সামনে জবানবন্দি দেবেন। কবে নাগাদ এই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে তা এখনো নির্দিষ্ট না হলেও, এর মাধ্যমে এপস্টেইনের গোপন নথির আড়ালে থাকা অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।















