নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক পর খুলনার শিল্পাঞ্চল খালিশপুরে আয়োজিত বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খালিশপুর প্রভাতী স্কুল ময়দানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দল নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে চায়। তাদের প্রধান নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, তারা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। যারা মা-বোনদের অপমানিত করে, তাদের কাছে দেশ ও জনগণের সম্মান নিরাপদ নয়।”
জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং পরবর্তীতে আইডি হ্যাক হওয়ার দাবিকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “তাদের ফাঁকিবাজি ধরা পড়ে যাওয়ায় এখন তারা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে। দেশের একটি বড় দলের প্রধান হয়ে তিনি কীভাবে এমন ডাহা মিথ্যা কথা বলতে পারেন? এরা আর যাই হোক, দেশের জনগণের আপন হতে পারে না। মা-বোনদের বলব, যারা আপনাদের কলঙ্কিত শব্দ দিয়ে অপমান করে, ব্যালটের মাধ্যমে তাদের যোগ্য জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।”
খুলনার ঝিমিয়ে পড়া শিল্পাঞ্চল নিয়ে আশার বাণী শুনিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে খুলনার কলকারখানা ধ্বংস করেছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “আমরা যদি জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই, তবে সব মতের মানুষকে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করা হবে। খুলনার রুগ্ন শিল্পকে আবার বিকশিত করা হবে এবং এখানে আধুনিক আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে। আমরা সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।”
ভোট গণনা নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “একটি মহল বলার চেষ্টা করছে ভোট গণনায় অনেক সময় লাগবে। এটি আরেকটি ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। আপনাদের অধিকার যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করার এবং সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে। দেশ পুনর্গঠনের জন্য এই মুহূর্তে বিএনপিকে প্রয়োজন। তাই ধানের শীষকে বিজয়ী করে আমাদের সুযোগ দিন।”















