ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফেড প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়নে শক্তিশালী মার্কিন ডলার; মুনাফা তুলে নেওয়ার ধুম ও অন্যান্য ধাতুর দামেও তীব্র পতন

স্বর্ণের দামে বড় ধস: ৫ হাজার ৫০০ ডলারের রেকর্ড ছুয়ে বড় পতন, নেপথ্যে ‘ট্রাম্প প্রভাব’

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৫৯৪ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার মাত্র একদিনের মাথায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম এক ধাক্কায় ৮ শতাংশের বেশি কমে গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) লেনদেনের এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। মূলত বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের নাম ঘোষণার পর ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এই ধস নেমেছে।

 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্পট স্বর্ণের দাম ৫.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮১.৫২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। দিনের এক পর্যায়ে তা ৪ হাজার ৯৫৭ ডলারেও নেমেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডের পরবর্তী প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বাজারে ডলারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ওয়ার্শ তুলনামূলক ‘কঠোর নীতি সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। আর ডলার শক্তিশালী হওয়া মানেই স্বর্ণের দাম ক্রেতাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠা।

 

এক্সএস ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক রানিয়া গুলে বলেন, “দ্রুত উত্থানের পর বাজারে এটি একটি শক্তিশালী সংশোধন। অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান এই পরিস্থিতিতে মুনাফা তুলে নিয়ে নিজেদের ঝুঁকি কমিয়েছে।” তবে এত বড় পতনের পরও মাসিক হিসেবে স্বর্ণ ১৯৮২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্থানের পথে রয়েছে। চলতি মাসেই ধাতুটির দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। শুধু স্বর্ণই নয়, দরপতন হয়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুরও। রুপার দাম এক দিনে ১৪.১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৯৯.৭৯ ডলারে নেমেছে, যা আগের দিন ১২১ ডলারে উঠেছিল। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

 

এদিকে, ভারতে ভৌত স্বর্ণের প্রিমিয়াম এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমদানি শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় সেখানে স্বর্ণ কেনার হিড়িক পড়েছে। চীনেও গহনার চাহিদা বাড়ছে। বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করছেন, দাম সাময়িকভাবে কমলেও ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আপাতত বাজারের এই অস্থিতিশীলতা কতদিন স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ফেড প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের মনোনয়নে শক্তিশালী মার্কিন ডলার; মুনাফা তুলে নেওয়ার ধুম ও অন্যান্য ধাতুর দামেও তীব্র পতন

স্বর্ণের দামে বড় ধস: ৫ হাজার ৫০০ ডলারের রেকর্ড ছুয়ে বড় পতন, নেপথ্যে ‘ট্রাম্প প্রভাব’

Update Time : ০১:০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৫৯৪ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করার মাত্র একদিনের মাথায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম এক ধাক্কায় ৮ শতাংশের বেশি কমে গেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) লেনদেনের এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। মূলত বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের নাম ঘোষণার পর ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে এই ধস নেমেছে।

 

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্পট স্বর্ণের দাম ৫.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮১.৫২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। দিনের এক পর্যায়ে তা ৪ হাজার ৯৫৭ ডলারেও নেমেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডের পরবর্তী প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দেওয়ার পর বাজারে ডলারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ওয়ার্শ তুলনামূলক ‘কঠোর নীতি সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। আর ডলার শক্তিশালী হওয়া মানেই স্বর্ণের দাম ক্রেতাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠা।

 

এক্সএস ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক রানিয়া গুলে বলেন, “দ্রুত উত্থানের পর বাজারে এটি একটি শক্তিশালী সংশোধন। অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান এই পরিস্থিতিতে মুনাফা তুলে নিয়ে নিজেদের ঝুঁকি কমিয়েছে।” তবে এত বড় পতনের পরও মাসিক হিসেবে স্বর্ণ ১৯৮২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্থানের পথে রয়েছে। চলতি মাসেই ধাতুটির দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। শুধু স্বর্ণই নয়, দরপতন হয়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুরও। রুপার দাম এক দিনে ১৪.১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৯৯.৭৯ ডলারে নেমেছে, যা আগের দিন ১২১ ডলারে উঠেছিল। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

 

এদিকে, ভারতে ভৌত স্বর্ণের প্রিমিয়াম এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমদানি শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় সেখানে স্বর্ণ কেনার হিড়িক পড়েছে। চীনেও গহনার চাহিদা বাড়ছে। বিশ্লেষক রস নরম্যান মনে করছেন, দাম সাময়িকভাবে কমলেও ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আপাতত বাজারের এই অস্থিতিশীলতা কতদিন স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা।