যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে এক প্রলয়ঙ্কারী শীতকালীন ঝড়, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানের ভাষায় ‘বোম্ব সাইক্লোন’ নামে পরিচিত। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঝড়ের প্রভাবে দেশটির বিশাল এক অঞ্চলে অস্বাভাবিক তুষারপাত, হারিকেন গতির বিধ্বংসী হাওয়া এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার রাত থেকেই ঝড়ের প্রভাব শুরু হবে এবং শনিবার রাত নাগাদ নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই দুর্যোগটি ‘বোম্বোজেনেসিস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করছে, যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় চাপ দ্রুত হ্রাস পেয়ে ঝড়ের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে প্রচণ্ড শীতল বাতাস দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে নেমে আসবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে জর্জিয়ার উত্তরাংশ, ক্যারোলাইনা অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৭টি অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ সরাসরি এই শীতকালীন ঝড় ও তুষারপাতের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়ায় ৫ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষার জমতে পারে। এমনকি সাউথ ক্যারোলাইনার রাজধানী কলাম্বিয়াতে ২০১০ সালের পর সবচেয়ে ভারী তুষারপাতের রেকর্ড হতে পারে এবার। আটলান্টার মতো শহরগুলো যেখানে তুষারপাত খুবই বিরল, সেখানে সামান্য বরফ জমাও জনজীবনে চরম দুর্ভোগ ও পরিবহন বিপর্যয় তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী শীতকালীন ঝড়ের ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই এই নতুন দুর্যোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মার্কিন বাসিন্দারা।
উপকূলীয় অঞ্চলে এই ঝড়ের প্রভাবে হারিকেন-গতির দমকা হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড ও পূর্ব ম্যাসাচুসেটসে সপ্তাহান্তে তুষারঝড়ের সাথে সমুদ্রের উচ্চ ঢেউ জনপদ প্লাবিত করতে পারে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।















