ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে ‘আজাদি’ হিসেবে ঘোষণা; চাঁদাবাজমুক্ত ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

‘৫ বছরেই পাল্টে যাবে বাংলাদেশের চেহারা’: ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের হুঙ্কার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দেশ আবার কোনো অপশাসনের কবলে পড়ে, তবে আগামী ৫০ বছরেও এই জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।

 

পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান সমাজের বিভিন্ন স্তরের চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক ও বাড়ির মালিক—সবাই আজ চাঁদাবাজির শিকার। আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে ইনসাফ কায়েম হবে এবং আইন সবার জন্য সমান হবে। অপরাধ করলে দেশের প্রেসিডেন্টও রেহাই পাবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, বিচার ব্যবস্থা ঠিক থাকলে সমাজে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থাকত না। শিশুদের জাতির সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তিতে জন্ম নেওয়া কোনো মেধাবী শিশুও যেন ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, আমরা সেই মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “সেদিন দুটি ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি। যারা গুম-খুন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশ চান, তারা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।” তিনি ঢাকা-১৫ আসনের স্থানীয় সমস্যা যেমন—জরাজীর্ণ রাস্তা, খোলা ড্রেন, মাদক ও চিকিৎসার অভাব দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হতে চাই, মালিক বা শোষক নয়। যুবকদের বেকার ভাতা নয়, বরং দক্ষ করে গড়ে তুলে আগামীর নেতৃত্বে বসানো হবে।”

 

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে, কিন্তু কাউকে ‘প্রভু’ হিসেবে মেনে নেবে না। তিনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে যুবকদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ইনসাফের পক্ষে দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে ‘আজাদি’ হিসেবে ঘোষণা; চাঁদাবাজমুক্ত ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

‘৫ বছরেই পাল্টে যাবে বাংলাদেশের চেহারা’: ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের হুঙ্কার

Update Time : ০১:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে মাত্র ৫ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দেওয়া সম্ভব। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ (মিরপুর-কাফরুল) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দেশ আবার কোনো অপশাসনের কবলে পড়ে, তবে আগামী ৫০ বছরেও এই জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।

 

পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান সমাজের বিভিন্ন স্তরের চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক ও বাড়ির মালিক—সবাই আজ চাঁদাবাজির শিকার। আমরা এমন এক সমাজ চাই যেখানে ইনসাফ কায়েম হবে এবং আইন সবার জন্য সমান হবে। অপরাধ করলে দেশের প্রেসিডেন্টও রেহাই পাবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, বিচার ব্যবস্থা ঠিক থাকলে সমাজে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থাকত না। শিশুদের জাতির সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বস্তিতে জন্ম নেওয়া কোনো মেধাবী শিশুও যেন ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, আমরা সেই মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “সেদিন দুটি ভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, আর ‘না’ ভোট মানে গোলামি। যারা গুম-খুন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশ চান, তারা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।” তিনি ঢাকা-১৫ আসনের স্থানীয় সমস্যা যেমন—জরাজীর্ণ রাস্তা, খোলা ড্রেন, মাদক ও চিকিৎসার অভাব দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা জনগণের সেবক হতে চাই, মালিক বা শোষক নয়। যুবকদের বেকার ভাতা নয়, বরং দক্ষ করে গড়ে তুলে আগামীর নেতৃত্বে বসানো হবে।”

 

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান সাফ জানিয়ে দেন, সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে, কিন্তু কাউকে ‘প্রভু’ হিসেবে মেনে নেবে না। তিনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে যুবকদের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ইনসাফের পক্ষে দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে ১৩ তারিখ থেকে একটি নতুন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।