প্রতীকী ছবি
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় এক চরম অমানবিক ও পৈশাচিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের স্ত্রীকে দিয়ে ডেকে নিয়ে ১৩ বছরের এক অবুঝ কিশোরীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫৫ বছর বয়সী এক লম্পট প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এই পাশবিকতার জেরে কিশোরীটি একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গোপনে তার গর্ভপাত করানো হয়, যা পরবর্তীতে ওই কিশোরীর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রাতে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিক মিয়াকে (৫৫) তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রফিক মিয়াকে একমাত্র আসামি করে চরফ্যাশন থানায় একটি কঠোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার (১৪ জুন) সকালে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রফিক ওই গ্রামের মৃত আলম মেকারের ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, তার বাবা স্থানীয় একটি হোটেলের সামান্য কর্মচারী। তারা চরফ্যাশন পৌরসভার একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে অত্যন্ত কষ্ট করে বসবাস করেন। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে মোহাম্মদ রফিক প্রায় চার মাস আগে কৌশলে তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সরল বিশ্বাসে সে ঘরে ঢুকলে রফিক দরজা বন্ধ করে তাকে প্রথম দফায় জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পাশবিকতা শেষে তাকে একটি অজ্ঞাত ওষুধ খাইয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। লোকলজ্জা আর চরম ভয়ে মেয়েটি বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখে। কিন্তু এরপর থেকে রফিকের লালসা আরও বেড়ে যায়। প্রায় সময়ই রফিক তার নিজের স্ত্রীকে দিয়ে ওই কিশোরীকে বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন এবং অভিযোগ রয়েছে, রফিকের স্ত্রী নিজেই মেয়েটিকে তার স্বামীর লালসার হাতে তুলে দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যেতেন।
টানা চার মাস পর মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি তার মা আঁচ করতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিশোরীটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং মায়ের কাছে পুরো লোমহর্ষক ঘটনাটি খুলে বলে। মা ঘটনাটি জানার পর মেয়ের সামাজিক ভবিষ্যৎ ও লোকলজ্জার কথা চিন্তা করে চরম ভুল সিদ্ধান্ত নেন এবং বিষয়টি গোপন রেখে গর্ভপাতের চেষ্টা করেন। গত শনিবার রাতে স্থানীয় এক হাতুড়ে নার্সের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটানো হয়। কিন্তু এর পরপরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কিশোরীটির অবস্থা আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে পুরো বিষয়টি প্রতিবেশীদের মাঝে জানাজানি হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গ্রামবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকের বাড়িতে চড়াও হন এবং তাকে বেঁধে উত্তম-মধ্যম দিয়ে থানায় খবর দেন।
কিশোরীর খালা আক্ষেপ করে বলেন, “প্রথমে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন আমাদের নজরে আসেনি। পরে যখন তার অবস্থা খুব খারাপ হয়, তখন আমরা তাকে ডাক্তার দেখাই এবং সব জানতে পারি। আমরা এই নরপশুর ফাঁসি চাই।” বর্তমানে মেয়েটি চরফ্যাশন সরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহামুদ আল ফরিদ ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “ভিকটিম কিশোরীটি বর্তমানে পুলিশি তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। এই জঘন্য ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর আমরা দ্রুততম সময়ে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ঘটনার সাথে রফিকের স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক 














