দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর সিরিয়া থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সামরিক বাহিনীর বড় অংশ প্রত্যাহারের প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় দেশটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করলেও, বর্তমানে হোয়াইট হাউস মনে করছে সিরিয়ার অভ্যন্তরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এখন স্থানীয় সরকারের রয়েছে।
বর্তমানে সিরিয়ায় প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে এই সেনা প্রত্যাহারকে ‘শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, বৃহৎ পরিসরে সেনা না থাকলেও ওই অঞ্চলে যেকোনো বড় ধরনের নিরাপত্তার হুমকির জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের আশঙ্কা চরমে পৌঁছেছে।
ইরান সীমান্তে রণতরি ও রণপ্রস্তুতি
সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের খবরের ঠিক বিপরীতে, ইরানের নিকটবর্তী সমুদ্রসীমায় মার্কিন সামরিক শক্তি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানের অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে। এই রণতরি বহরে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের এক বিশাল বহর।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল—সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং ইরানের সামনে রণতরি মোতায়েন—মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের দামামা কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে তারা দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি কমাতে চায়, অন্যদিকে তেহরানকে রুখতে সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ প্রদর্শনও বজায় রাখছে।
একনজরে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























