ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ধানমন্ডির ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

সাংবাদিকদের মারধর: ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত ও রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণমাধ্যমকর্মীদের মারধরে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দলের চার নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন— শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম এবং মামুন হোসেন।

 

 

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের আকস্মিক তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উগ্রপন্থী কিছু নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেসরকারি দৈনিক ‘সকালের মাল্টিমিডিয়া’র রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। এই পৈশাচিক হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘোষণা দেন, অনতিবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তারা জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের রাজনৈতিক সংবাদ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ বর্জন করবেন।

 

 

সাংবাদিকদের এই কঠোর আলটিমেটাম ও দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মঙ্গলবারই জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর দুঃখপ্রকাশ ও দুঃখ প্রকাশ করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

গঠিত তদন্ত কমিটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাজ শেষ করে আজ বুধবার বিকেলেই মহানগর দক্ষিণ নেতৃত্বের কাছে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ওই চার নেতাকর্মীকে মূল উসকানিদাতা এবং হামলার মূল হোতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জামায়াতের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মূল মারধরের ঘটনায় আরও কয়েকজন কর্মী আংশিক জড়িত ছিলেন। তবে শফিকুল, খাইরুল, আবুল কালাম এবং মামুন—এই চারজনই মূলত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মারধর শুরু করেছিলেন। ফলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই চারজনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বাকিদের ভবিষ্যতে এমন আচরণের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ধানমন্ডির ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

সাংবাদিকদের মারধর: ৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল জামায়াত

Update Time : ১২:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত

 

রাজধানীর ধানমন্ডিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত ও রক্তাক্ত হামলার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গণমাধ্যমকর্মীদের মারধরে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দলের চার নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন— শফিকুল ইসলাম, খায়রুল আলম রাসেল, আবুল কালাম এবং মামুন হোসেন।

 

 

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে সংবাদ সংগ্রহের অংশ হিসেবে প্রশ্ন করাকে কেন্দ্র করে উপস্থিত জামায়াত নেতাকর্মীদের সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের আকস্মিক তর্ক-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উগ্রপন্থী কিছু নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বেসরকারি দৈনিক ‘সকালের মাল্টিমিডিয়া’র রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। এই পৈশাচিক হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টাররা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘোষণা দেন, অনতিবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু বিচার ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তারা জামায়াতে ইসলামীর সব ধরনের রাজনৈতিক সংবাদ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ বর্জন করবেন।

 

 

সাংবাদিকদের এই কঠোর আলটিমেটাম ও দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে মঙ্গলবারই জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর দুঃখপ্রকাশ ও দুঃখ প্রকাশ করে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নুরুন্নবি মানিককে আহ্বায়ক করে তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

 

 

গঠিত তদন্ত কমিটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাজ শেষ করে আজ বুধবার বিকেলেই মহানগর দক্ষিণ নেতৃত্বের কাছে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে ওই চার নেতাকর্মীকে মূল উসকানিদাতা এবং হামলার মূল হোতা হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। জামায়াতের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মূল মারধরের ঘটনায় আরও কয়েকজন কর্মী আংশিক জড়িত ছিলেন। তবে শফিকুল, খাইরুল, আবুল কালাম এবং মামুন—এই চারজনই মূলত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মারধর শুরু করেছিলেন। ফলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই চারজনকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বাকিদের ভবিষ্যতে এমন আচরণের জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।