ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ

সরকারের ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা: লক্ষ্য জনআস্থা অর্জন

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা শেষে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে জনগণের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত এই সরকার প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্টটার্গেটনিয়ে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক এবং রাতে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের আগামীর গতিমুখ স্পষ্ট হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং বিদ্যুৎজ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে।

 

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরই সামনে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা রোধে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার স্বস্তি ফেরানোই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম পরীক্ষা। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা কাটানো এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে নিজের কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। দুই যুগ পর দেশে ফিরে তিনি যেপ্ল্যান’-এর কথা বলেছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তার প্রতিফলন ঘটাতে শুরু করেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতিতে সুবাতাস ফেরানোই এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট খালিদুর রহমান মনে করেন, ঘোষণার চেয়ে সরকারের কার্যকর বাস্তবায়নই এখন জনআস্থা নির্ধারণের প্রধান নিক্তি হবে। বিএনপি সরকার ১৮০ দিনের এই রোডম্যাপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চায় যে, তারা গত দুই দশকের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ রমজান মাসে সরকারের পদক্ষেপগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যা নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিত করাই প্রধান চ্যালেঞ্জ

সরকারের ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা: লক্ষ্য জনআস্থা অর্জন

Update Time : ১১:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষা শেষে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে জনগণের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত এই সরকার প্রথম ছয় মাস বা ১৮০ দিনের একটি সুনির্দিষ্টটার্গেটনিয়ে কাজ শুরু করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক এবং রাতে জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সরকারের আগামীর গতিমুখ স্পষ্ট হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং বিদ্যুৎজ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে।

 

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরই সামনে এসেছে পবিত্র রমজান মাস। সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠা রোধে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে প্রশাসন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ইফতার ও তারাবিহ নামাজের সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার স্বস্তি ফেরানোই হবে বর্তমান সরকারের প্রথম পরীক্ষা। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা কাটানো এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তোলার বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে নিজের কঠোর মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। দুই যুগ পর দেশে ফিরে তিনি যেপ্ল্যান’-এর কথা বলেছিলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই তার প্রতিফলন ঘটাতে শুরু করেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অস্থিরতা কাটিয়ে অর্থনীতিতে সুবাতাস ফেরানোই এই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট খালিদুর রহমান মনে করেন, ঘোষণার চেয়ে সরকারের কার্যকর বাস্তবায়নই এখন জনআস্থা নির্ধারণের প্রধান নিক্তি হবে। বিএনপি সরকার ১৮০ দিনের এই রোডম্যাপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চায় যে, তারা গত দুই দশকের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ রমজান মাসে সরকারের পদক্ষেপগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যা নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।