শালীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তাঁর বিয়ে হয় অন্য জায়গায়। এই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে শালীর স্বামীকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন দুলাভাই। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে কিশোর রাজু মিঞা (১৯) হত্যার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূলহোতা মো. ফিরোজ আহাম্মদ (৩৪) ও তাঁর শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ফিরোজ চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের শিকার রাজু মিঞা ছিলেন ফিরোজের শালীর বর্তমান স্বামী। ফিরোজের বাড়ি রাউজান এলাকায় হলেও তিনি ঢাকায় চাকরি করতেন। সেই সুবাদে শ্বশুরবাড়িতে আসা-যাওয়ার পথে নিজের স্ত্রীর ছোট বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁর শালী প্রতিবেশী রাজু মিঞার সঙ্গে প্রণয়সূত্রে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি ফিরোজ ও তাঁর শাশুড়ি ফাতেমা বেগম। সামাজিক মীমাংসা হলেও তাঁদের প্রতিহিংসার আগুন নেভেনি, যা শেষ পর্যন্ত রাজুর প্রাণ কেড়ে নেয়।
গত ২১ জানুয়ারি রাতে কৌশলে রাজুকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন ফিরোজ। তিনি রাজুকে বলেন যে, তাঁর স্ত্রীর জন্য একটি উপহার (থ্রি-পিস) পাঠিয়েছেন, যা গ্রহণ করার জন্য রাজুকে খনখাইয়া খালের পাড়ে আসতে হবে। রাজু সরল বিশ্বাসে সেখানে পৌঁছালে ফিরোজ ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর পেট, গলা ও পিঠে উপুর্যুপরি আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই রাজুর মৃত্যু নিশ্চিত হলে মরদেহটি খালের ঢালে বালিচাপা দিয়ে ফিরোজ পালিয়ে যান। এরপর ২৬ জানুয়ারি রাজুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কুমিল্লা থেকে মূল আসামি ফিরোজকে গ্রেপ্তারের পর সব রহস্য বেরিয়ে আসে। ফিরোজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর শাশুড়িকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি এই হত্যার পরিকল্পনার অংশীদার ছিলেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের পাশ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি এবং সেই থ্রি-পিসটি উদ্ধার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর জানাজানি হওয়ার পর ফটিকছড়ি ও রাউজান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
















