ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সিটি করপোরেশনের ডেডলাইন পার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী

রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী

সংগৃহীত ছবি

 

পবিত্র ঈদুল আজহার পর দিনও রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির পশুর বর্জ্য। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও, বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে ভিন্ন রূপ। আবাসিক এলাকা ও অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা পশুর নাড়িভুঁড়ি, চামড়ার অংশ, খুর ও রক্তমাখা ময়লা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এই বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ ও ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

 

আজ শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় এখনও সড়কের পাশে পশুর বর্জ্য স্তূপাকার করে রাখা হয়েছে। কোথাও ড্রেনের মুখ আটকে আছে নাড়িভুঁড়িতে, কোথাও আবার জমে থাকা রক্ত ও ময়লা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে বীভৎস পরিবেশ। আবাসিক এলাকার ভেতরের ছোট সড়কগুলোতে পরিস্থিতি আরও নাজুক। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় এবং ব্লিচিং পাউডার না ছিটানোয় তীব্র গরমে দুর্গন্ধ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

 

 

মগবাজারের বাসিন্দা সাইফুল রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে বাসার জানালা খোলার কোনো উপায় নেই। চারদিকে এত দুর্গন্ধ যে ঘরে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আমরা খুব ভোগান্তিতে আছি।” অন্যদিকে শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, “বর্জ্য পড়ে থাকায় ড্রেনের পানি এখনই আটকে যাচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এত বড় শহরে ঈদের পরও যদি এমন নোংরা পরিবেশ থাকে, তবে মানুষ কষ্ট তো পাবেই।”

 

 

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য অপসারণে কাজ করতেও দেখা গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হওয়ায় এবং জনবল সংকটের কারণে কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। এ ছাড়া ঈদের দ্বিতীয় দিনেও (শুক্রবার) অনেক এলাকায় নতুন করে পশু কোরবানি হওয়ায় নতুন বর্জ্যের সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের কাজকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

 

 

এদিকে রাজধানীর কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাটের আশপাশেও আজ শুক্রবার পর্যন্ত ছিল চরম নোংরা পরিবেশ। বিশেষ করে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের নিচে বসা অস্থায়ী পশুর হাট এলাকায় জমে থাকা রক্ত, ভুঁড়ি ও গোবরের কারণে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি দিয়ে যাতায়াতকারী শত শত পথচারীকে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। উত্তরার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “মেট্রো স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পাশে এখনও এমন নোংরা পরিবেশ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত জীবাণুনাশক না ছিটানো হলে এই এলাকা রোগবালাইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।”

 

 

উল্লেখ্য, ঈদের দিন থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আট ঘণ্টার মধ্যে এবং উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার সকালে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, “দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। আজ নতুন করে আরও ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে নগরবাসীর দাবি, প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলির বর্জ্য পরিষ্কারে যেন সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সিটি করপোরেশনের ডেডলাইন পার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী

রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্যের স্তূপ, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ নগরবাসী

Update Time : ১০:০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

পবিত্র ঈদুল আজহার পর দিনও রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে কোরবানির পশুর বর্জ্য। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেওয়া হলেও, বাস্তব চিত্রে দেখা গেছে ভিন্ন রূপ। আবাসিক এলাকা ও অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা পশুর নাড়িভুঁড়ি, চামড়ার অংশ, খুর ও রক্তমাখা ময়লা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এই বর্জ্যের কারণে পরিবেশ দূষণ ও ব্যাপক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

 

আজ শুক্রবার (২৯ মে) দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক জায়গায় এখনও সড়কের পাশে পশুর বর্জ্য স্তূপাকার করে রাখা হয়েছে। কোথাও ড্রেনের মুখ আটকে আছে নাড়িভুঁড়িতে, কোথাও আবার জমে থাকা রক্ত ও ময়লা পানিতে সৃষ্টি হয়েছে বীভৎস পরিবেশ। আবাসিক এলাকার ভেতরের ছোট সড়কগুলোতে পরিস্থিতি আরও নাজুক। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সময়মতো বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় এবং ব্লিচিং পাউডার না ছিটানোয় তীব্র গরমে দুর্গন্ধ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

 

 

মগবাজারের বাসিন্দা সাইফুল রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সকাল থেকে বাসার জানালা খোলার কোনো উপায় নেই। চারদিকে এত দুর্গন্ধ যে ঘরে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আমরা খুব ভোগান্তিতে আছি।” অন্যদিকে শান্তিনগরের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, “বর্জ্য পড়ে থাকায় ড্রেনের পানি এখনই আটকে যাচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এত বড় শহরে ঈদের পরও যদি এমন নোংরা পরিবেশ থাকে, তবে মানুষ কষ্ট তো পাবেই।”

 

 

তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দুই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বর্জ্য অপসারণে কাজ করতেও দেখা গেছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হওয়ায় এবং জনবল সংকটের কারণে কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। এ ছাড়া ঈদের দ্বিতীয় দিনেও (শুক্রবার) অনেক এলাকায় নতুন করে পশু কোরবানি হওয়ায় নতুন বর্জ্যের সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের কাজকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

 

 

এদিকে রাজধানীর কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাটের আশপাশেও আজ শুক্রবার পর্যন্ত ছিল চরম নোংরা পরিবেশ। বিশেষ করে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশনের নিচে বসা অস্থায়ী পশুর হাট এলাকায় জমে থাকা রক্ত, ভুঁড়ি ও গোবরের কারণে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটি দিয়ে যাতায়াতকারী শত শত পথচারীকে নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। উত্তরার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “মেট্রো স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গার পাশে এখনও এমন নোংরা পরিবেশ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত জীবাণুনাশক না ছিটানো হলে এই এলাকা রোগবালাইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।”

 

 

উল্লেখ্য, ঈদের দিন থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আট ঘণ্টার মধ্যে এবং উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার সকালে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, “দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। আজ নতুন করে আরও ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মকর্তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে নগরবাসীর দাবি, প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলির বর্জ্য পরিষ্কারে যেন সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।