অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের সংকট মেটাতে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ৬৫ হাজার এইচ-২বি (H-2B) মৌসুমি গেস্ট ওয়ার্কার ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারের একটি নোটিশের বরাতে জানা গেছে, যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের সহায়তায় এই অতিরিক্ত ভিসাগুলো উন্মুক্ত করা হবে।
সাধারণত কৃষি বহির্ভূত খাত যেমন- হোটেল, পর্যটন, সমুদ্রজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নির্মাণ খাতে প্রতি বছর ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়া হয়। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বার্ষিক ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্বীকার করেছে যে, এসব খাতে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত মার্কিন শ্রমিক খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়োগকর্তারা। বিশেষ করে হোটেল ও পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ দিন ধরে ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ট্রাম্পের আগের মেয়াদে এবং জো বাইডেনের আমলেও শ্রমিকের চাহিদা মেটাতে এই সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কিছুটা বৈচিত্র্যময়। কারণ ২০২৫ সালে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছেন এবং বৈধ অভিবাসনের অনেক পথও সংকুচিত করেছেন। ইতিমধ্যে এইচ-১বি (H-1B) কর্মী ভিসার ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপ করে প্রযুক্তি খাতের বিদেশি কর্মী নিয়োগ কঠিন করে তোলা হয়েছে, যা বর্তমানে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষের গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করছে যে, অতিরিক্ত মৌসুমি কর্মী আনলে মার্কিন শ্রমিকদের মজুরি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ফেডারেল রেজিস্টারের নোটিশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকর করার জন্য একটি অস্থায়ী বিধি আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্মাণ ও সেবা খাতের নিয়োগকর্তারা স্বস্তি পেলেও, ট্রাম্পের সার্বিক অভিবাসন নীতি ও শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে বিতর্ক জারি রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিজের কঠোর অভিবাসন ভাবমূর্তি রক্ষা করেও দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতেই ট্রাম্প এমন ‘ব্যতিক্রমী’ পথে হাঁটছেন।



























