তহবিল নিয়ে দীর্ঘ নাটকীয়তা আর রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর মার্কিন সিনেটে একটি চুক্তি অনুমোদিত হলেও কারিগরি জটিলতায় আবারও আংশিক সরকারি শাটডাউনের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে এই অচলাবস্থা কার্যকর হয়েছে। সিনেটে বিলটি পাশ হলেও প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বর্তমানে অধিবেশনে না থাকায় বিলটিতে চূড়ান্ত সই পড়েনি, যার ফলে তৈরি হয়েছে এই সাময়িক তহবিল শূন্যতা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, অধিকাংশ সরকারি সংস্থার জন্য আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তহবিল নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা অভিবাসন বিভাগ। সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সমঝোতা অনুযায়ী, পুরো বিভাগটি বন্ধ না করে আপাতত মাত্র দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি তহবিল দেওয়া হয়েছে, যাতে এই সময়ের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে পুনরায় দরকষাকষি করা যায়।
এক বছরের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়বারের মতো শাটডাউন। এর মাত্র ১১ সপ্তাহ আগেই দেশটির ইতিহাসের দীর্ঘতম ৪৩ দিনের শাটডাউন শেষ হয়েছিল। এবারের পরিস্থিতি অবশ্য আগের মতো দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম। কারণ প্রতিনিধি পরিষদ আগামী সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) অধিবেশনে ফিরলেই বিলটি পাশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও হোয়াইট হাউস থেকে প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও পরিবহনসহ বেশ কিছু বিভাগকে শাটডাউন পরিকল্পনা কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের বলা হয়েছে, তারা যেন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে শাটডাউনের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করেন।
সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিবাসন এজেন্টদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা আনতে এবং তাদের কথিত ‘গোপন পুলিশি’ কায়দা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটরা অনড় অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে মিনিয়াপলিসে আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেত্তি ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের মধ্যেই চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিচার বিভাগ ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় নাগরিক অধিকার তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংকটের দ্রুত অবসানে তাঁর দলের আইনপ্রণেতাদের চুক্তির পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।



























