ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৫ বছরে ঘুচবে অভাব; অসাধু ব্যবসায়ীদের দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি

যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে বিমোচন করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা হলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনের একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একটি গাণিতিক হিসাব তুলে ধরে বলেন, দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এর মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যদি প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, তবে ওই পরিবারগুলোর একটি বড় অংশকে পরের বছর আর যাকাত নিতে হবে না। ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিত্তবানদের সচেতন করতে আপনারা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করে এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি। বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত সংগৃহীত হয়, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে জাতীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

 

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রমজান হলো ত্যাগ ও সংযমের মাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কেউ কেউ এই মাসটিকে লোভ ও লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।অসাধু পন্থায় যারা জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে, তাদের প্রতি তিনি বিনীত আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন।

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের রমজানে সরকারি ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্র সাধনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এবার মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হতে পারে এই মৌসুমের শেষ সরকারি ইফতার মাহফিল। চলমান বাস্তবতায় আলেমদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন কিছুটা দেরিতে হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা ইসলামিক স্কলার, এতিম শিশু এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ বছরে ঘুচবে অভাব; অসাধু ব্যবসায়ীদের দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি

যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : ১০:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য চিরতরে বিমোচন করা সম্ভব। তিনি মনে করেন, লক্ষ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত বণ্টন করা হলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচনের একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় বাসভবন যমুনায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে একটি গাণিতিক হিসাব তুলে ধরে বলেন, দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। এর মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে যদি প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, তবে ওই পরিবারগুলোর একটি বড় অংশকে পরের বছর আর যাকাত নিতে হবে না। ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিত্তবানদের সচেতন করতে আপনারা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। যাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করে এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি। বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি যাকাত সংগৃহীত হয়, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে জাতীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

 

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রমজান হলো ত্যাগ ও সংযমের মাস। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কেউ কেউ এই মাসটিকে লোভ ও লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।অসাধু পন্থায় যারা জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলছে, তাদের প্রতি তিনি বিনীত আহ্বান জানিয়ে বলেন, পবিত্র মাসের মর্যাদা রক্ষায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকুন।

 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের রমজানে সরকারি ব্যয় সংকোচন ও কৃচ্ছ্র সাধনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে এবার মাত্র দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এটিই হতে পারে এই মৌসুমের শেষ সরকারি ইফতার মাহফিল। চলমান বাস্তবতায় আলেমদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন কিছুটা দেরিতে হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা ইসলামিক স্কলার, এতিম শিশু এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।