ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মাজার ভাঙা ও রামমন্দিরে বাধার তীব্র সমালোচনা বীর মুক্তিযোদ্ধার

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি করার প্রস্তাব বিএনপির

সংগৃহীত ছবি

 

‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ও এর শহীদদের অবদানকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মানী ভাতা যেকোনো মূল্যে উচ্চে রাখার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। চলমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এই জোরালো প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতায় ফজলুর রহমান বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অবদান অনস্বীকার্য, কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সাথে অন্য কোনো ভাতার তুলনা হতে পারে না। কোনো কারণে সেটি করা হলে আগামী পাঁচ বছর পর জাতিকে খেসারত দিতে হবে। তাই জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা অন্তত এক টাকা হলেও বেশি করার প্রস্তাব করছি।”

 

 

 

বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে এই প্রবীণ সংসদ সদস্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ভাত ও তরকারির সম্পর্ক যেমন নিবিড়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্কও ঠিক তেমন। সংস্কৃতিকে অনাহারে রেখে কেবল শিক্ষা বাজেট বাড়ালে দেশে প্রকৃত সভ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে না।

 

 

 

বক্তৃতায় ডানপন্থী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান বিস্তারের দিকে ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় গ্রামে হিন্দু ভাইদের দুর্গাপূজা বা শীতকালীন যাত্রা গান উৎসবমুখর পরিবেশে হতো। এখন একদল লোক বলছে ফুটবল খেলা দেখলে কাফের হয়ে যাবে, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের খেলা দেখা যাবে না। এরা আমাদের মধ্যযুগের বর্বরতার দিকে নিয়ে যেতে চায়।”

 

 

একই সাথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুটের রামমন্দির নির্মাণে উগ্রপন্থী কয়েকটি সংগঠনের বাধা ও ‘মালাউন’ সম্বোধন করে দেওয়া সাম্প্রদায়িক স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ফজলুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। ও ১০০ না ৩০০ মূর্তি বানাক, ও ওর মন্দিরে পূজা করবে, আমি আমার ২৫ তলা মসজিদে নামাজ পড়ব—এটাই তো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সৌন্দর্য।”

 

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাজার ও সুফি সাধকদের আস্তানায় সাম্প্রতিক হামলার কঠোর সমালোচনা করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, শাহজালাল, শাহপরাণ ও খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়াদের সুফিবাদই এ দেশে ইসলামের আলো এনেছে এবং শিখিয়েছে ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’। কিন্তু বর্তমানের একশ্রেণির মানুষ ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে মাজার ভেঙে ফেলতে চায়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাওরাঞ্চলে ৬ হাজার কোটি টাকার উড়াল সড়ক প্রকল্প বাতিলের সমালোচনা করে হাওরের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে কম খরচে হলেও বিকল্প রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মাজার ভাঙা ও রামমন্দিরে বাধার তীব্র সমালোচনা বীর মুক্তিযোদ্ধার

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে বেশি করার প্রস্তাব বিএনপির

Update Time : ১০:৫২:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

‘জুলাই অভ্যুত্থান’ ও এর শহীদদের অবদানকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সম্মানী ভাতা যেকোনো মূল্যে উচ্চে রাখার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। চলমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এই জোরালো প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেট বক্তৃতায় ফজলুর রহমান বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের অবদান অনস্বীকার্য, কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সাথে অন্য কোনো ভাতার তুলনা হতে পারে না। কোনো কারণে সেটি করা হলে আগামী পাঁচ বছর পর জাতিকে খেসারত দিতে হবে। তাই জুলাইযোদ্ধাদের চেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা অন্তত এক টাকা হলেও বেশি করার প্রস্তাব করছি।”

 

 

 

বাজেটে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখার সমালোচনা করে এই প্রবীণ সংসদ সদস্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দে চরম বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ভাত ও তরকারির সম্পর্ক যেমন নিবিড়, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সম্পর্কও ঠিক তেমন। সংস্কৃতিকে অনাহারে রেখে কেবল শিক্ষা বাজেট বাড়ালে দেশে প্রকৃত সভ্যতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে না।

 

 

 

বক্তৃতায় ডানপন্থী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান বিস্তারের দিকে ইঙ্গিত করে ফজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় গ্রামে হিন্দু ভাইদের দুর্গাপূজা বা শীতকালীন যাত্রা গান উৎসবমুখর পরিবেশে হতো। এখন একদল লোক বলছে ফুটবল খেলা দেখলে কাফের হয়ে যাবে, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের খেলা দেখা যাবে না। এরা আমাদের মধ্যযুগের বর্বরতার দিকে নিয়ে যেতে চায়।”

 

 

একই সাথে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুটের রামমন্দির নির্মাণে উগ্রপন্থী কয়েকটি সংগঠনের বাধা ও ‘মালাউন’ সম্বোধন করে দেওয়া সাম্প্রদায়িক স্লোগানের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ফজলুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। ও ১০০ না ৩০০ মূর্তি বানাক, ও ওর মন্দিরে পূজা করবে, আমি আমার ২৫ তলা মসজিদে নামাজ পড়ব—এটাই তো অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের সৌন্দর্য।”

 

 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাজার ও সুফি সাধকদের আস্তানায় সাম্প্রতিক হামলার কঠোর সমালোচনা করে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, শাহজালাল, শাহপরাণ ও খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়াদের সুফিবাদই এ দেশে ইসলামের আলো এনেছে এবং শিখিয়েছে ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’। কিন্তু বর্তমানের একশ্রেণির মানুষ ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে মাজার ভেঙে ফেলতে চায়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হাওরাঞ্চলে ৬ হাজার কোটি টাকার উড়াল সড়ক প্রকল্প বাতিলের সমালোচনা করে হাওরের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে কম খরচে হলেও বিকল্প রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প পুনরায় চালুর দাবি জানান তিনি।