ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আজ শনিবার (২৮ মার্চ) জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার তাদের অপারেশনাল এলাকায় পৌঁছেছে বিশালাকার উভচর আক্রমণকারী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’। এই যুদ্ধজাহাজে করে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেরিন সেনা এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। জাহাজটিতে শুধু সেনাই নয়, বরং বিপুল সংখ্যক পরিবহণ বিমান, কৌশলগত আক্রমণকারী বিমান এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক সেনার সমাগম ঘটিয়ে চলেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মেরিন সেনাসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সৈন্য অবস্থান করছে। গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের চৌকস ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর আরও এক হাজার সেনাকে এই অঞ্চলে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। প্রতিদিন যেভাবে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল বাড়ছে, তাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যদি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর স্থল অভিযান শুরু করে, তবে এটি হবে ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় কোনো স্থল যুদ্ধ। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মার্কিন বাহিনী পুনরায় কোনো দেশে সরাসরি স্থল আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পুরো বিশ্বের ভূ–রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, ইউএসএস ত্রিপোলি মূলত ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত সেনা নামানোর (Amphibious Assault) ক্ষমতা রাখে, যা স্থল হামলার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক মহল যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সামরিক সমাবেশের তীব্র সমালোচনা করছে। তুরস্ক ও ইরান ইতিমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে যে, যেকোনো ধরণের উসকানিমূলক পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আগুনের কুণ্ডলীতে নিক্ষেপ করবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো এই সেনাবহরকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউস কি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য এই বিশাল বাহিনী মোতায়েন করেছে, নাকি সত্যিই পারস্য উপসাগরে আরও একটি বড় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দামামা বাজতে চলেছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























