ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফলাফল বিবরণীতে ঘষামাঝা ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ ডা. শফিকুর রহমানের; নির্বাচন কমিশনকে আল্টিমেটাম

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ জামায়াতের; প্রতিকার না পেলে ‘পথ ধরার’ হুঁশিয়ারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় অনিয়ম, জালিয়াতি এবং ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রধান নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জয়পরাজয় স্বাভাবিক বিষয় হলেও যেভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক আসনে জেতা প্রার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ফলাফল বিবরণীতে ঘষামাঝা করার সুনির্দিষ্ট নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে।

 

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় জোটের কর্মীসমর্থক ও এজেন্টদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে। এটি সরাসরি ফ্যাসিবাদী তৎপরতা।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত তাদের। কিন্তু এখনই যদি এই ধরণের আলামত দেখা যায়, তবে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ না করলে জামায়াত যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলে তিনি জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গতকাল ফলাফল ঘোষণার সময় বেশ কিছু জায়গায় রহস্যজনকভাবে প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিশেষভাবে ঢাকা৮ আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে এনসিপি প্রার্থী নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে যা হয়েছে এবং যেভাবে সেন্টার দখল করে একজন প্রভাবশালী নেতার আপনজনের নেতৃত্বে ভোট লুট করা হয়েছে, তার সাক্ষী দেশবাসী। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তারা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, তবে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার তাদের আছে।

 

নির্বাচন কমিশনকে আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি এই অনিয়মের প্রতিকার করা না হয়, তবে তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায়ইনসাফ করবেন। অন্যথায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় তাদেরকেই নিতে হবে।নির্বাচনের পর যখন নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখন জামায়াত ও তাদের মিত্রদের এই অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ফলাফল বিবরণীতে ঘষামাঝা ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ ডা. শফিকুর রহমানের; নির্বাচন কমিশনকে আল্টিমেটাম

ভোট জালিয়াতির অভিযোগ জামায়াতের; প্রতিকার না পেলে ‘পথ ধরার’ হুঁশিয়ারি

Update Time : ১০:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনায় অনিয়ম, জালিয়াতি এবং ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রধান নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে জয়পরাজয় স্বাভাবিক বিষয় হলেও যেভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক আসনে জেতা প্রার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ফলাফল বিবরণীতে ঘষামাঝা করার সুনির্দিষ্ট নথিপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে।

 

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা লক্ষ্য করেছেন, আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় জোটের কর্মীসমর্থক ও এজেন্টদের বাড়িতে হামলা হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে। এটি সরাসরি ফ্যাসিবাদী তৎপরতা।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন, দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব মূলত তাদের। কিন্তু এখনই যদি এই ধরণের আলামত দেখা যায়, তবে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ না করলে জামায়াত যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বলে তিনি জানান।

 

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, গতকাল ফলাফল ঘোষণার সময় বেশ কিছু জায়গায় রহস্যজনকভাবে প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বিশেষভাবে ঢাকা৮ আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে এনসিপি প্রার্থী নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারীর ক্ষেত্রে যা হয়েছে এবং যেভাবে সেন্টার দখল করে একজন প্রভাবশালী নেতার আপনজনের নেতৃত্বে ভোট লুট করা হয়েছে, তার সাক্ষী দেশবাসী। ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তারা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন, তবে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার তাদের আছে।

 

নির্বাচন কমিশনকে আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি এই অনিয়মের প্রতিকার করা না হয়, তবে তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা আশা করবো নির্বাচন কমিশনের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা ন্যায়ইনসাফ করবেন। অন্যথায় উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় তাদেরকেই নিতে হবে।নির্বাচনের পর যখন নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় চলছে, ঠিক তখন জামায়াত ও তাদের মিত্রদের এই অভিযোগ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।