আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভোটের মাঠে কোনো অনিয়ম বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে তা দাঁড়িয়ে দেখা হবে না, বরং শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে সেনাবাহিনী ও যৌথবাহিনীর চলমান অভিযানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মজুত থাকা অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ভোটারদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। আমরা আশা করি, আজকের রাতের মধ্যে সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হবে যাতে মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।” তবে একই সাথে তিনি টাকা উদ্ধারের নামে প্রার্থীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ২০ হাজার টাকা রাখার দায়েও জামায়াত নেতাদের হেনস্তা করা হচ্ছে, যা মূলত এক ধরণের ফ্রেমিং এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, “দেশের কিছু মিডিয়া আবারও ৫ আগস্টের আগের মতো একপাক্ষিক অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে মিস–ইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা নোট রাখছি কারা বায়াসনেস দেখাচ্ছেন; এবার আর কাউকে ক্ষমা করা হবে না।” সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও ভুয়া খবরের বিরুদ্ধেও তিনি সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
পোলিং এজেন্টদের বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের এজেন্টদের হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। ভোটারদের অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত করার চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিনসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














