নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই ভোটারদের চমক দিয়ে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার একটি আগাম চিত্র তুলে ধরছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১১–দলীয় নির্বাচনি জোট যদি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনসভায় চারজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে জামায়াত ও তাদের শরিক দলগুলো নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থার বার্তা পৌঁছাতে চাইছে।
সর্বশেষ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় আয়োজিত ১১–দলীয় ঐক্যের বিশাল নির্বাচনি জনসভায় ঢাকা–১১ আসনের জোট সমর্থিত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম এই ছাত্র নেতাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যদি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে জনগণের রায় আসে, তবে নাহিদ ইসলামকে নতুন সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখা যাবে। এই তরুণেরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের যোগ্য কাণ্ডারি।”
এর আগেও গত ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লা–১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিসভার অন্যতম ‘সিনিয়র সদস্য’ করার ঘোষণা দেন। ২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি হামিদুর রহমান আযাদকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জয়ী হলে তিনিও সরকারের অন্যতম নীতি–নির্ধারক মন্ত্রী হবেন। এছাড়া ২৪ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানকেও মন্ত্রী করার ঘোষণা দিয়ে জনতাকে আশ্বস্ত করেন জামায়াত আমির।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনি জনসভায় সরাসরি মন্ত্রী করার ঘোষণা দেওয়ার এই কৌশল ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতায় সরাসরি অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি স্থানীয় ভোটারদের আকৃষ্ট করার একটি কার্যকর মাধ্যম। ১১–দলীয় জোটের প্রধান এই নেতা পর্যায়ক্রমে যেভাবে সম্ভাব্য ছায়া মন্ত্রিসভার তালিকা দিচ্ছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দক্ষ সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














