ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি
ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়লেও শেষ রক্ষা হলো না প্রেমিকযুগলের। স্বপ্ন ছিল অজানায় পাড়ি জমিয়ে নতুন এক পৃথিবী গড়ার, কিন্তু নিয়তির পরিহাসে তাদের গন্তব্য হলো শ্রীঘর আর বিচ্ছেদের বেদনা। কুড়িগ্রামের রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে আপস-মীমাংসার বৈঠকে প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে তাদের গগনবিদারী কান্নার দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
ঘটনার পটভূমি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে কবির হোসেনের (১৯) সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৭ এপ্রিল পরিবারের অমতে তারা অজানার উদ্দেশে পাড়ি জমান। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাদের না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তরুণীর মা আজিরণ বেগম ৩ মে কবিরের বিরুদ্ধে রৌমারী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
পরিষদে হৃদয়বিদারক দৃশ্য মামলার পর গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি বৈঠক বসে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, তরুণীকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং তাদের এই সম্পর্কের ইতি ঘটাতে হবে। এই সিদ্ধান্তের কথা শোনার পরেই শুরু হয় এক আবেগঘন ও নাটকীয় পরিস্থিতি। কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে রাজি নন। উপস্থিত সবার সামনেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন কবির ও তার প্রেমিকা। প্রিয়জনকে হাতছাড়া না করার আকুল আর্তি আর ধস্তাধস্তির সেই দৃশ্য সেখানে উপস্থিত কেউ মোবাইলে ধারণ করেন, যা শুক্রবার (৮ মে) ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তোলপাড় শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “উভয় পরিবারের সম্মতিতে বৈঠক হলেও ছেলে-মেয়ে একে অপরকে ছাড়তে রাজি ছিল না। এক পর্যায়ে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।”
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী জানান, শুক্রবার রাতে পরিষদ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। অপহরণ মামলায় কবিরসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আইন আর আবেগের এই দ্বন্দ্বে আপাতত বিচ্ছেদই হলো এই জুটির পরিণতি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাদের সেই আলিঙ্গন ও কান্নার ভিডিও সাধারণ মানুষের মনে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

অনলাইন ডেস্ক 














