ঢাকা , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য মেটার বিশেষ ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রোগ্রাম

ফেসবুকে রিলস ও পোস্টে মাসে সাড়ে ৩ লাখ আয়

সংগৃহীত ছবি

 

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে এর মাতৃপ্রতিষ্ঠান মেটা। এখন থেকে শুধু ভিডিও নয়, বরং রিলস ও সাধারণ পোস্ট শেয়ার করেও প্রতি মাসে ৩ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি আয় করার সুযোগ পাবেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

 

 

‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক একটি বিশেষ প্রোগ্রামের আওতায় এই বিশাল অংকের অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। সম্প্রতি মেটার অফিসিয়াল নিউজরুমে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

মূলত ইউটিউব এবং টিকটকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয় ক্রিয়েটরদের নিজেদের ইকোসিস্টেমে টেনে আনতেই মেটা এই বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। তবে এই অর্থ আয়ের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, মেটা নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যারা ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবে একটি শক্তিশালী ফলোয়ার বেজ তৈরি করতে পেরেছেন, তারাই এই প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার পাবেন।

 

 

মেটার ঘোষণা অনুযায়ী, আয়ের ক্ষেত্রটিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, যাদের ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবে অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে, তারা ফেসবুকের এই নতুন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয় করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, যাদের উল্লিখিত প্ল্যাটফর্মগুলোর যেকোনো একটিতে ১০ লাখ বা তার বেশি ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের নিশ্চয়তা পাবেন। এই প্রোগ্রামের অধীনে নির্বাচিত ক্রিয়েটররা টানা তিন মাস মেটার পক্ষ থেকে সরাসরি পেমেন্ট পাবেন, তবে শর্ত হলো তাদের ফেসবুকে নিয়মিত ‘এলিজিবল রিলস’ বা মানসম্মত ছোট ভিডিও এবং পোস্ট শেয়ার করতে হবে।

 

 

শুধু অর্থ প্রদানই নয়, মেটা এসব ক্রিয়েটরের কনটেন্টের রিচ বা দর্শক সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে বিশেষ কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে করে একজন ক্রিয়েটর খুব দ্রুত ফেসবুকেও নিজের বিশাল একটি ভক্তকুল তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এছাড়া মেটা তাদের ‘কনটেন্ট মনিটাইজেশন’ ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মেটা ক্রিয়েটরদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পেমেন্ট করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ফেসবুকের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই আসছে রিলস থেকে, আর বাকি অংশ আসছে ছবি ও টেক্সট পোস্ট থেকে। যারা দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তাদের জন্য ছবি বা লেখা থেকে আয়ের এই সুযোগ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

 

এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আমন্ত্রণভিত্তিক। তবে আগ্রহী ক্রিয়েটররা তাদের ফেসবুক প্রোফাইল বা পেজের ‘প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড’ থেকে ‘মনিটাইজেশন’ ট্যাবে গিয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। মেটা কর্তৃপক্ষ যোগ্য প্রোফাইলগুলো যাচাই-বাছাই করে ই-মেইল বা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করবে।

 

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের তরুণ ও সৃজনশীল ক্রিয়েটরদের জন্য এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক বিশাল সুযোগ।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য মেটার বিশেষ ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রোগ্রাম

ফেসবুকে রিলস ও পোস্টে মাসে সাড়ে ৩ লাখ আয়

Update Time : ০৭:১৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের জন্য এক বিশাল সুখবর নিয়ে এসেছে এর মাতৃপ্রতিষ্ঠান মেটা। এখন থেকে শুধু ভিডিও নয়, বরং রিলস ও সাধারণ পোস্ট শেয়ার করেও প্রতি মাসে ৩ হাজার ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার বেশি আয় করার সুযোগ পাবেন কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

 

 

‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক একটি বিশেষ প্রোগ্রামের আওতায় এই বিশাল অংকের অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। সম্প্রতি মেটার অফিসিয়াল নিউজরুমে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

 

মূলত ইউটিউব এবং টিকটকের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয় ক্রিয়েটরদের নিজেদের ইকোসিস্টেমে টেনে আনতেই মেটা এই বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। তবে এই অর্থ আয়ের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও, মেটা নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যারা ইতিমধ্যে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবে একটি শক্তিশালী ফলোয়ার বেজ তৈরি করতে পেরেছেন, তারাই এই প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার পাবেন।

 

 

মেটার ঘোষণা অনুযায়ী, আয়ের ক্ষেত্রটিকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, যাদের ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবে অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে, তারা ফেসবুকের এই নতুন প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে প্রতি মাসে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয় করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, যাদের উল্লিখিত প্ল্যাটফর্মগুলোর যেকোনো একটিতে ১০ লাখ বা তার বেশি ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের নিশ্চয়তা পাবেন। এই প্রোগ্রামের অধীনে নির্বাচিত ক্রিয়েটররা টানা তিন মাস মেটার পক্ষ থেকে সরাসরি পেমেন্ট পাবেন, তবে শর্ত হলো তাদের ফেসবুকে নিয়মিত ‘এলিজিবল রিলস’ বা মানসম্মত ছোট ভিডিও এবং পোস্ট শেয়ার করতে হবে।

 

 

শুধু অর্থ প্রদানই নয়, মেটা এসব ক্রিয়েটরের কনটেন্টের রিচ বা দর্শক সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে বিশেষ কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এতে করে একজন ক্রিয়েটর খুব দ্রুত ফেসবুকেও নিজের বিশাল একটি ভক্তকুল তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এছাড়া মেটা তাদের ‘কনটেন্ট মনিটাইজেশন’ ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে মেটা ক্রিয়েটরদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পেমেন্ট করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেশি। বর্তমানে ফেসবুকের মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই আসছে রিলস থেকে, আর বাকি অংশ আসছে ছবি ও টেক্সট পোস্ট থেকে। যারা দীর্ঘ ভিডিও তৈরি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তাদের জন্য ছবি বা লেখা থেকে আয়ের এই সুযোগ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

 

এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে আমন্ত্রণভিত্তিক। তবে আগ্রহী ক্রিয়েটররা তাদের ফেসবুক প্রোফাইল বা পেজের ‘প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড’ থেকে ‘মনিটাইজেশন’ ট্যাবে গিয়ে নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। মেটা কর্তৃপক্ষ যোগ্য প্রোফাইলগুলো যাচাই-বাছাই করে ই-মেইল বা নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করবে।

 

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের তরুণ ও সৃজনশীল ক্রিয়েটরদের জন্য এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক বিশাল সুযোগ।