বর্তমান কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় নিয়োগকারী সংস্থা ‘রানস্ট্যাড’-এর বার্ষিক ‘ওয়ার্কমনিটর’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যাচ্ছে, এআই-এর কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়া নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের ‘জেন-জি’ কর্মীরা যতটা উদ্বিগ্ন, প্রবীণ বা ‘বেবি বুমার’ প্রজন্মের কর্মীরা ঠিক ততটাই আত্মবিশ্বাসী। ৩৫টি দেশের প্রায় ২৭ হাজার কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচজন কর্মীর মধ্যে চারজনই মনে করেন এআই তাদের দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে এআই চ্যাটবট এবং অটোমেশনের ওপর কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা বাড়ায় জেন-জি কর্মীরা তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত। রানস্ট্যাড জানিয়েছে, যেসব চাকরিতে ‘এআই এজেন্ট’ সংক্রান্ত দক্ষতার প্রয়োজন, তেমন পদের চাহিদা এক বছরে প্রায় ১ হাজার ৫৮৭ শতাংশ বেড়েছে। গৎবাঁধা কাজগুলো মানুষের বদলে যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় কর্মসংস্থান কমার ভয় জেঁকে বসেছে তরুণদের মনে।
অন্যদিকে, প্রবীণ কর্মীরা এআই-এর প্রভাব নিয়ে খুব একটা বিচলিত নন। তাদের মাঝে এই নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি দেখা গেছে। তবে কর্মীদের একটি বড় অংশই মনে করে, এই প্রযুক্তি সাধারণ কর্মীদের তুলনায় বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকেই বেশি লাভবান করবে। রানস্ট্যাড-এর প্রধান নির্বাহী স্যান্ডার ভ্যান’টি নোর্ডেন্ডে বলেন, “কর্মীদের মাঝে এআই নিয়ে উৎসাহ যেমন আছে, তেমনি সংশয়ও আছে। তারা মনে করছেন কোম্পানিগুলো খরচ কমাতে ও সক্ষমতা বাড়াতেই মানুষের বিকল্প খুঁজছে।”
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, ডনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ ও কঠোর পররাষ্ট্রনীতির ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এখন টালমাটাল। এমন পরিস্থিতিতে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ করলেও মুনাফার চেয়ে অটোমেশনের মাধ্যমে কর্মী ছাঁটাইয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ নিয়োগকর্তা ব্যবসার প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে আশাবাদী হলেও সাধারণ কর্মীদের মাত্র ৫১ শতাংশ সেই আশাবাদের সঙ্গে একমত হতে পেরেছেন।

















