ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের কথা উল্লেখ; স্বৈরাচারমুক্ত পর দেশ পুনর্গঠনের ডাক

প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তা রক্ষা করে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে। এর সপক্ষে প্রমাণ দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে জনগণের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে, কৃষির উন্নয়নে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেছে এবং ধর্মীয় কাঠামোর সুরক্ষায় ইমামমোয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে।

 

বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের বাকস্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। সরকারের সামান্য সমালোচনা করলেই সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলার শিকার হতে হতো। পুরো দেশ একটি ভয়ের রাজ্যে পরিণত হয়েছিল।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্রজনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সেই শ্বাসরুদ্ধকর ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। তবে এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এ দেশের বহু মানুষকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে, হাজারো ছাত্রজনতার রক্ত ঝরেছে। তাঁদের এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

 

পথসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে শুধু স্বৈরাচারমুক্ত করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল না; এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিনের ক্ষতবিক্ষত এই দেশটিকে নতুন করে পুনর্গঠন করা। দেশের মানুষ একসময় চরম ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করেছে। জনগণ তাদের সাহসিকতা দিয়ে দেশকে সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে মুক্ত করেছে। এখন আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো দলমত নির্বিশেষে একটি নতুন, বৈষম্যহীন এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বরুড়াসহ কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন। পথসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খননের কথা উল্লেখ; স্বৈরাচারমুক্ত পর দেশ পুনর্গঠনের ডাক

প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি তা রক্ষা করে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

Update Time : ০৯:৩৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে। এর সপক্ষে প্রমাণ দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে জনগণের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে, কৃষির উন্নয়নে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করেছে এবং ধর্মীয় কাঠামোর সুরক্ষায় ইমামমোয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ সম্মানীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে।

 

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে।

 

বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষের বাকস্বাধীনতা বলতে কিছু ছিল না। সরকারের সামান্য সমালোচনা করলেই সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলার শিকার হতে হতো। পুরো দেশ একটি ভয়ের রাজ্যে পরিণত হয়েছিল।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্রজনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সেই শ্বাসরুদ্ধকর ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। তবে এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এ দেশের বহু মানুষকে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছে, হাজারো ছাত্রজনতার রক্ত ঝরেছে। তাঁদের এই আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

 

পথসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে শুধু স্বৈরাচারমুক্ত করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল না; এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হলো দীর্ঘদিনের ক্ষতবিক্ষত এই দেশটিকে নতুন করে পুনর্গঠন করা। দেশের মানুষ একসময় চরম ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করেছে। জনগণ তাদের সাহসিকতা দিয়ে দেশকে সেই অন্ধকার অবস্থা থেকে মুক্ত করেছে। এখন আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব হলো দলমত নির্বিশেষে একটি নতুন, বৈষম্যহীন এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বরুড়াসহ কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেন। পথসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।