আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও ‘নৌকা’ প্রতীকের অভাবকে কেন্দ্র করে রাজপথের পর এবার আদালত চত্বরেও প্রতিবাদের সুর চড়ছে। সোমবার ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে একদল আইনজীবী একত্রিত হয়ে ‘#NoBoatNoVote’ স্লোগান দিয়ে ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছেন। এ সময় আইনজীবী নেতা মিরাজ তালুকদার একটি বিস্ফোরক তথ্য দাবি করে বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে থাকা বন্দিদের ৯৭ শতাংশই বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় ‘না’ ভোট দিয়েছেন।
আন্দোলনরত আইনজীবীদের দাবি, দেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট মিরাজ তালুকদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের আপামর জনতা এই একপাক্ষিক নির্বাচন বর্জন করেছে। আমরা সমাজের সচেতন অংশ হিসেবে এই প্রহসনের ভোটের অংশ হতে পারি না। আমাদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দি ৯৭ শতাংশ আসামিই বর্তমান ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করে ‘না’ ভোট দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের এই আবেগের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা দেশব্যাপী ‘#NoBoatNoVote’ ক্যাম্পেইন শুরু করেছি।”
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আইনজীবী এড. কামরুল হোসেন বলেন, “বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, দেশের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রতীক ব্যালটে নেই। ফলে জনগণ এই নির্বাচনকে নৈতিকভাবে গ্রহণ করছে না।” তিনি স্পষ্ট জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁরা কোনোভাবেই অংশ নেবেন না এবং তাঁদের এই বয়কট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী ও অ্যাডভোকেট মোকসুদুল হাসান মন্ডল প্রমুখ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালতের বিপুল সংখ্যক আইনজীবী সমবেত হয়ে স্লোগান দিচ্ছেন- “যে ব্যালটে নৌকা নাই, সেই ব্যালটে আমরা আইনজীবীরা ভোট দিব না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কারাগারের ভেতরের ভোট নিয়ে মিরাজ তালুকদারের দাবিটির কোনো দাপ্তরিক ভিত্তি না থাকলেও, নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এ ধরনের প্রচারণা সাধারণ ভোটারদের মনে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নৌকার সমর্থকদের মধ্যে এই ‘নো ভোট’ ক্যাম্পেইন ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 















