ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেজাউল হত্যার দায়ে তারেক রহমানকে দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান; গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে সিলেটে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ডাক

‘নির্বাচন কমিশন কি হাতে চুড়ি পরে বসে আছে?’: সিলেটে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের হুঙ্কার

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, “নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত হাতে চুড়ি পরে বসে আছে। আপনাদের কাজ কী? যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের কমিশনের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।” বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণজমায়েতে তিনি এসব হুঁশিয়ারি দেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও জামায়াত নেতা রেজাউল হত্যার প্রসঙ্গে টেনে সাদিক কায়েম সরাসরি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির যেসব সন্ত্রাসী আমাদের রেজাউল ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই হত্যার দায় তারেক রহমান আপনাকেও নিতে হবে। কারণ, আপনি আপনার পরিকল্পনার কথা বললেও নিজের গুন্ডাদের সামলাতে পারেননি।” তিনি অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে মা-বোনদের ওপর অর্ধশতাধিক হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আর যদি হামলা হয়, তবে হামলাকারীদের হাত ভেঙে ফেলা হবে। জুলাই বিপ্লবে বোনদের রক্তাক্ত করার পর হাসিনা পালিয়েছেন, এবার হামলা হলে পালানোর সুযোগও পাবেন না।”

সাদিক কায়েম আরও দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির রাজনীতিতে মত্ত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওইদিন ব্যালটে প্রথম সিলটি পড়বে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রায়।”

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। গণজমায়েতে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ ছাত্র ও যুব সমাজের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

রেজাউল হত্যার দায়ে তারেক রহমানকে দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান; গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে সিলেটে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ ডাক

‘নির্বাচন কমিশন কি হাতে চুড়ি পরে বসে আছে?’: সিলেটে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের হুঙ্কার

Update Time : ১১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, “নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত হাতে চুড়ি পরে বসে আছে। আপনাদের কাজ কী? যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে না পারেন, তবে বিগত ফ্যাসিবাদী আমলের কমিশনের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।” বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এক গণজমায়েতে তিনি এসব হুঁশিয়ারি দেন।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও জামায়াত নেতা রেজাউল হত্যার প্রসঙ্গে টেনে সাদিক কায়েম সরাসরি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির যেসব সন্ত্রাসী আমাদের রেজাউল ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই হত্যার দায় তারেক রহমান আপনাকেও নিতে হবে। কারণ, আপনি আপনার পরিকল্পনার কথা বললেও নিজের গুন্ডাদের সামলাতে পারেননি।” তিনি অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে মা-বোনদের ওপর অর্ধশতাধিক হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বিএনপি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আর যদি হামলা হয়, তবে হামলাকারীদের হাত ভেঙে ফেলা হবে। জুলাই বিপ্লবে বোনদের রক্তাক্ত করার পর হাসিনা পালিয়েছেন, এবার হামলা হলে পালানোর সুযোগও পাবেন না।”

সাদিক কায়েম আরও দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির রাজনীতিতে মত্ত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওইদিন ব্যালটে প্রথম সিলটি পড়বে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের রায়।”

 

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। গণজমায়েতে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ ছাত্র ও যুব সমাজের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।