টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে রায়হান কবির ইমন নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে হাসপাতালের সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাকে শনাক্ত করার পর পুলিশে সোপর্দ করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ইমনকে আটকের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ, ডিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে এক নারী চিকিৎসক ওয়াশরুমে একটি ‘কলমসদৃশ’ গোপন ক্যামেরা দেখতে পান। ওই সময় অভিযুক্ত ইমন ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চিকিৎসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রোববার ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার বিকেলে ইমন হাসপাতালে এলে চিকিৎসকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে সরিয়ে নেয়।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আদিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারী চিকিৎসকদের নিরাপত্তার এমন চরম লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ইন্টার্ন চিকিৎসকের সনদ বাতিলের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনরত সহকর্মীরা।
















