ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে এককভাবে সরকার গঠনের শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট দেশের অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি জোট ২১০টি আসনে বিজয় লাভ করেছে, যার ফলে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, বিজয়ী হলে তারেক রহমানই সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশ নিয়ে ঢাকা–১৭ ও বগুড়া–৬—এই দুটি আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ফলাফল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে এ দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে নারী প্রধানমন্ত্রীদের (খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা) মাধ্যমে। সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকারের আমলে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিএনপি হাইকমান্ড থেকে এক বিশেষ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনী বিজয় উপলক্ষে কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল বা বিজয় র্যালি করা হবে না। শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের এই নিরঙ্কুশ জয়ের জন্য জুমার নামাজের পর সারা দেশে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং উৎসবের নামে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 
























