ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই ফল ঘোষণা করেন। তবে আইনি জটিলতা ও কারিগরি কারণে চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল বর্তমানে স্থগিত রাখা হয়েছে।
সচিব জানান, দেশের অধিকাংশ আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটিয়ে বিজয়ীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, পাশাপাশি স্বতন্ত্র ও জোট প্রার্থীরাও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়লাভ করেছেন।
রংপুর বিভাগে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
এছাড়া দিনাজপুরের বিভিন্ন আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা আধিপত্য বিস্তার করেছেন। রাজশাহী বিভাগে বগুড়া-৬ আসন থেকে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি রাজশাহী মহানগর ও নওগাঁর আসনগুলোতেও পরিবর্তনের ঢেউ দেখা গেছে। খুলনা ও ঢাকা বিভাগেও বিএনপির একক আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ইশরাক হোসেনের মতো প্রার্থীরা বড় জয় পেয়েছেন। খুলনার ৬টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন।
নির্বাচনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সাফল্য। পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, ভোলা-১ আসনে আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকি জয়ী হয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া গাজীপুর ও নরসিংদীর মতো শিল্পাঞ্চলগুলোতেও বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগেও ধানের শীষের প্রার্থীরা অধিকাংশ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া দুই আসনের বিষয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশজুড়ে বিজয়ীদের জন্য দোয়া ও শুকরিয়া আদায়ের কর্মসূচি পালন করবে বিজয়ী দল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 












