মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্বিতীয় দফায় হত্যাচেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত রায়ান রাউথকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফ্লোরিডার একটি আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাউথের অপরাধের ভয়াবহতা এবং সুপরিকল্পিত হামলার নীল নকশা বিবেচনায় নিয়ে আদালত এই কঠোরতম শাস্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মামলার রায় প্রদানকালে ডিস্ট্রিক্ট জজ আইলিন ক্যানন পর্যবেক্ষণে বলেন, রায়ান রাউথ দীর্ঘ সময় ধরে একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো যে কাউকে হত্যা করার মানসিক প্রস্তুতিও ছিল তাঁর। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের পর থেকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়েই রাউথ নিজের অপরাধের জন্য কোনো ধরণের অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ করেননি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন গলফ খেলছিলেন, তখন ঝোপের আড়াল থেকে রাইফেলের ব্যারেল তাক করে ওত পেতে ছিলেন রাউথ। সিক্রেট সার্ভিসের এক সতর্ক সদস্য বিষয়টি দেখে ফেললে গুলি ছোড়েন, যার ফলে রাউথ পালিয়ে যান। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তাঁর কাছ থেকে একটি সেমি–অটোমেটিক রাইফেল, স্কোপ এবং ট্রাম্পের যাতায়াতের সম্ভাব্য স্থানের একটি তালিকা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। এমনকি এক বন্ধুকে লেখা চিঠিতে তিনি নিজেই একে ‘হত্যার প্রচেষ্টা‘ বলে স্বীকার করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এটি ছিল দ্বিতীয় বড় ধরণের হামলার ঘটনা। এর আগে জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে একটি নির্বাচনি সমাবেশে তিনি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। উত্তর ক্যারোলিনার বাসিন্দা রায়ান রাউথের এই দণ্ডাদেশের মধ্য দিয়ে মার্কিন রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও উদ্বেগজনক একটি আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা বলয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

























