ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও হলফনামা ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবেদনে জানানো হয়, টিআইবির দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত ৭০টি আসনের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, ২১.৪ শতাংশ আসনে এক বা একাধিক জাল ভোট প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। তবে ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে জাতীয়ভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের ২১ শতাংশই জাল ছিল; বরং এটি শুধুমাত্র নির্বাচিত নমুনা আসনগুলোর পরিস্থিতির প্রতিফলন।
প্রতিবেদনে সংসদ সদস্যদের আর্থিক অবস্থার একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠেছে। টিআইবি জানায়, এবারের সংসদের অর্ধেক সদস্যেরই ব্যাংক দায় বা ঋণ রয়েছে, যার মোট পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এটি বিগত চারটি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৬ শতাংশ সদস্যের ঋণ রয়েছে। এছাড়া পেশাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রায় ৬০ শতাংশই ব্যবসায়ী। যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, তবে নবম সংসদের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেশি।
নির্বাচন আয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রতিবেদনে নেতিবাচক পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে নিষ্ক্রিয়তা ও অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। টিআইবি বলছে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা রক্ষা করেনি। অনেক প্রার্থী নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা অতিক্রম করেছেন এবং সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতা করার প্রবণতাও দৃশ্যমান হয়েছে। রাজনৈতিক মূল্যবোধের এই ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অনলাইন ডেস্ক 













