ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নারী নেতৃত্ববিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ রোবাইয়াত ফাতিমা তনির

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেসচেতন নাগরিক সমাজনামের একটি সংগঠন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ওই চিঠিটি পাঠ করে শোনানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন যেকোনো নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি বা কোনো সংস্থার প্রধান হতে পারবেন না। তনির দাবি, এটি জামায়াতের ঘোষিত নীতি যা সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। তিনি বলেন, “আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী, কোনো দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া একটি চরম অসাংবিধানিক আদর্শ।

 

সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলের উপস্থিতিতে তনি আরও উল্লেখ করেন, নারীর সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক আপসের বিষয় হতে পারে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়: প্রথমত, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ; দ্বিতীয়ত, নারীর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিচার নিশ্চিত করা এবং তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা; এবং তৃতীয়ত, নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনি অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের পরপরই জামায়াতের নারী নেতৃত্ব সংক্রান্ত আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এই দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে জামায়াত যখন সংসদে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তখন লিঙ্গ সমতার এই ইস্যুটি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে দলটিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে। সচেতন নাগরিক সমাজের নেতারা জানান, তাঁরা এই দাবি আদায়ে রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে সক্রিয় থাকবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নারী নেতৃত্ববিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ রোবাইয়াত ফাতিমা তনির

জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

Update Time : ১১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেসচেতন নাগরিক সমাজনামের একটি সংগঠন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আলোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার এবং সংগঠনটির সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ওই চিঠিটি পাঠ করে শোনানো হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন যেকোনো নারী দলীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি বা কোনো সংস্থার প্রধান হতে পারবেন না। তনির দাবি, এটি জামায়াতের ঘোষিত নীতি যা সরাসরি বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। তিনি বলেন, “আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) অনুযায়ী, কোনো দল যদি লিঙ্গ সমতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে সেই রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলযোগ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণের অধিকার কেড়ে নেওয়া একটি চরম অসাংবিধানিক আদর্শ।

 

সংগঠনটির আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলের উপস্থিতিতে তনি আরও উল্লেখ করেন, নারীর সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার কোনো রাজনৈতিক আপসের বিষয় হতে পারে না। সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়: প্রথমত, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ; দ্বিতীয়ত, নারীর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য ডা. শফিকুর রহমানের বিচার নিশ্চিত করা এবং তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা; এবং তৃতীয়ত, নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর আইনি অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের পরপরই জামায়াতের নারী নেতৃত্ব সংক্রান্ত আদর্শিক অবস্থান নিয়ে এই দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে জামায়াত যখন সংসদে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, তখন লিঙ্গ সমতার এই ইস্যুটি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে দলটিকে চাপের মুখে ফেলতে পারে। সচেতন নাগরিক সমাজের নেতারা জানান, তাঁরা এই দাবি আদায়ে রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে সক্রিয় থাকবেন।