চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশ থেকে আসা জাহাজ থেকে তেল খালাসের সময় প্রায় পৌনে ১৪ কোটি টাকা মূল্যের ২ হাজার ৩৬২ টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আজ রোববার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ এমরানের নেতৃত্বে একটি টিম ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ‘নরডিক স্কিয়ার’ এবং ‘নরডিক ফ্রিডম’ নামে দুটি জাহাজ মোট ২ লাখ ৯ হাজার ৫৮৪ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে আসে। নিয়ম অনুযায়ী, কুতুবদিয়া অ্যাংকরে জাহাজ দুটির তেলের পরিমাণ পরিমাপ (আলেজ সার্ভে) করা হয়েছিল। কিন্তু পতেঙ্গা ডলফিন জেটি থেকে মাত্র ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারির উপকূলীয় ট্যাঙ্কে তেল খালাসের পর দেখা যায়, বিশাল অংকের তেলের কোনো হদিস নেই। পরিমাপ শেষে দেখা যায়, উপকূলীয় ট্যাঙ্কে ২ লাখ ৭ হাজার ২২১ টন তেল জমা হয়েছে, যা মূল পরিমাণ থেকে ২ হাজার ৩৬২ টন কম।
দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারি তেল খালাসের সময় এই বিশাল ঘাটতি কেন হলো এবং এর পেছনে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুতই দুদক প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, জেটি থেকে ট্যাঙ্কের দূরত্ব অত্যন্ত কম হওয়া সত্ত্বেও এত বিপুল পরিমাণ তেল উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
















