সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়ক। সংগৃহীত ছবি
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল কিছুটা কমায় চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোর পানি ধীরগতিতে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১৭৬টি ইউনিয়নের ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবারের প্রায় ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ এই বন্যা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের প্লাবিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা সাতকানিয়া উপজেলার। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রতিটি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সাঙ্গু নদী, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে রামপুর ও পৌরসভা এলাকায় ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বাজালিয়া ইউনিয়নের বুড়ির দোকান এলাকায় সড়ক ডুবে থাকায় চট্টগ্রামের সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ টানা তিন দিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোয় যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সাতকানিয়া সদর, নলুয়া, ঢেমশা ও তেমুহুনি এলাকায় এখন একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা ও কলার ভেলা। অনেক পরিবার জীবন বাঁচাতে ঘরের আসবাবপত্র ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। একই সঙ্গে গত বুধবার থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট যোগাযোগ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নেটওয়ার্ক না থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রকৃত তথ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পেতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা खोন্দকার মাহমুদুল হাসান।
অন্যদিকে, বাঁশখালী উপজেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। গত রাতের আকস্মিক বৃষ্টিতে উপজেলার বাহারছড়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ি ও কাথারিয়া ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় নতুন করে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাঁশখালীতে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা ৩৮ হাজার থেকে এক লাফে ৫৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বেশ কিছু স্থানে রাস্তা কেটে দেওয়া হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৬০ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য বিতরণের প্রক্রিয়া চলছে।
















