আওয়ামী লীগের অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ–৩ (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) আসনে রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি মোট ৬০,১৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩,৮৬৭ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভিটা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্থায়ী এই আসনে দীর্ঘ কয়েক দশক পর এটিই প্রথম অ–আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়।
২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কেন্দ্র থেকে নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু গোপালগঞ্জে দলটির কোনো পদধারী নেতাকে প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। মূলত অধিকাংশ নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকা এবং অনেকে কারাবন্দি বা আত্মগোপনে থাকায় নির্বাচনী মাঠে তাঁদের কোনো তৎপরতা ছিল না। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট বর্জনের ডাক গোপালগঞ্জেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়েছে, যা ভোটার উপস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে, উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও গোপালগঞ্জে নাশকতার ছায়া দেখা গেছে। ভোটের আগের দিন রাতে জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের ১২টি কেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এমনকি ভোটের দিন সকালেও গোপালগঞ্জ শহরের রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই ঘটনায় দুইজন আনসার সদস্য এবং একজন শিশু আহত হয়েছে। নাশকতার এই আতঙ্ক সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোট গণনা শেষে এস এম জিলানীর জয় নিশ্চিত হয়, যা গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে এক বিশাল মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এস এম জিলানীর এই বিজয়কে বিএনপির নেতাকর্মীরা ‘গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার আসনে বিএনপির এই জয় বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা। কড়া নিরাপত্তা ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই নির্বাচনের ফলাফল গোপালগঞ্জসহ সারা দেশের মানুষের নজর কেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গোপালগঞ্জ 














