সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের উপস্থিতির হার নেই বললেই চলে। অনেক কেন্দ্রে কেবল বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের এজেন্টদের দেখা মিললেও অন্য কোনো প্রার্থীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি চোখে পড়েনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী আসন হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জ–৩ (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) আসনের চিত্র সবচেয়ে বেশি নিস্প্রভ। টুঙ্গিপাড়ার ডিমাডাঙ্গা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭টার আগেই প্রিজাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও ভোটারের দেখা মিলছে না। ২৫৪০ জন ভোটারের এই কেন্দ্রে উপস্থিতির হার শূন্যের কাছাকাছি। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় এবং দলটির পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের ডাক থাকায় ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের চরম অনাগ্রহ কাজ করছে।
গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে প্রায় ১০ লাখ ভোটার থাকলেও অধিকাংশ মানুষই ভোটদান থেকে বিরত রয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের পদধারী অনেক নেতা কারাগারে অথবা আত্মগোপনে থাকায় প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরব ভোট বর্জনের প্রভাব স্পষ্ট। টুঙ্গিপাড়া, যা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান ও সমাধিস্থল, সেখানে এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের কোনো নৌকা প্রতীকের পোস্টার বা নির্বাচনী ক্যাম্প দেখা যাচ্ছে না।
ভোটের মাঠে উপস্থিত থাকা বিএনপির এজেন্টরা অবশ্য আশাবাদী। তারা মনে করছেন, ভয় এবং সংকোচ কাটিয়ে বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে। তাদের লক্ষ্য অন্তত ৫০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। তবে সাধারণ ভোটারদের মন্তব্য অনুযায়ী, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দল না থাকায় এই নির্বাচনের প্রতি তাদের কোনো বিশেষ আকর্ষণ নেই।
এদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুরো গোপালগঞ্জ জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিজিবি, পুলিশ ও সেনাসদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও ভোটারের অভাবে কেন্দ্রগুলো কার্যত ফাঁকা পড়ে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গোপালগঞ্জ 














