রাজধানীর গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকায় আদালতের কার্যক্রম শেষে বাসায় ফেরার পথে পাঁচ আইনজীবীর ওপর ‘মব সন্ত্রাসীদের’ ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে একদল উগ্র জনতা কোনো কারণ ছাড়াই সুপ্রিম কোর্ট ও ঢাকা জজ কোর্টের এই আইনজীবীদের ঘিরে ধরে মারধর করে এবং তাঁদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় তাঁদের টেনেহিঁচড়ে পল্টন মডেল থানায় নিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
আক্রান্ত আইনজীবীরা হলেন– সুপ্রিম কোর্টের গোলাম রাব্বানী ও রিয়াজুর ইসলাম এবং ঢাকা জজ কোর্টের শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মুত্তাকিন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁরা পেশাগত কাজ শেষে ফেরার সময় অতর্কিতভাবে এই হামলার শিকার হন। সন্ত্রাসীরা কেবল শারীরিকভাবে হেনস্তাই করেনি, বরং তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিপত্রও লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই পেশাজীবীদের পুলিশি হেফাজতে রাখার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
পল্টন থানা পুলিশ পাঁচ আইনজীবীকে হেফাজতে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাঁদের আটকের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট মিরাজ তালুকদার বলেন, “আমি থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে জানতে চেয়েছি কেন আমার ভাইদের আটক রাখা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো যৌক্তিক জবাব দিতে পারেনি। আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এখন কোথায়? এটি একটি হৃদয়বিদারক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা।”
আইনজীবী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিনাকারণে আটককৃত পাঁচ আইনজীবীকে অবিলম্বে মুক্তি না দিলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনে নামবেন এবং প্রয়োজনে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই ‘মব ভায়োলেন্স’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতা বন্ধে এবং আইনজীবীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বর্তমানে পল্টন থানা এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী জড়ো হয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














