|দিঘলিয়া থানা, খিলনা।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় এক পাষণ্ড পিতার হাতে ২২ দিনের এক নবজাতক নির্মমভাবে খুনের শিকার হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ, ২০২৬) রাত ১০টার দিকে বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে শিশু মোনতাসির শেখের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির পিতা নাহিদুর রহমান শেখকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেড় বছর আগে লাখোহাটি গ্রামের মুর্শিদা আক্তার মৌয়ের সঙ্গে নাহিদুরের বিয়ে হয়। গত ২২ দিন আগে তাদের এক পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর মৌ বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। গত ২ মার্চ নাহিদুর শ্বশুরবাড়িতে যান এবং ৩ মার্চ সকালে শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় কোনো এক ফাঁকে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন।
ঘটনার পর নাহিদুর ঘরে ফিরে স্ত্রীকে জানান যে, তিনি শিশুকে বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং দ্রুত স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে তিনি শিশুটির অবস্থান নিয়ে অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। ফরিদপুরের কাছাকাছি গিয়ে নাহিদুর অসুস্থতার ভান করে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী চিৎকার শুরু করেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ তোলেন।
হাসপাতালের কর্মীদের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ লাখোহাটি গ্রামের সেপটিক ট্যাংক থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।
দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুর নিজের সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
















