নির্বাচনী মাঠে বড় বড় নেতাদের গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতি যখন ভোটারদের কাছে একঘেয়ে হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ-রাণীশংকৈল) আসনে ‘গ্ল্যামার’ আর ‘ব্যতিক্রমী বুলি’ দিয়ে বাজিমাত করছেন একমাত্র নারী প্রার্থী আশা মণি। কদিন আগে ‘বিয়ের উপহার’ হিসেবে ভোট চেয়ে আলোচনায় আসা এই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবার তরুণদের ‘ক্রাশ’ খাওয়া নিয়ে মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণসংযোগকালে তরুণ ভোটারদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখে হাস্যোজ্জ্বল মুখে আশা মণি বলেন, “ক্রাশ খাওয়া খারাপ কিছু না ভাই। ক্রাশ খেলে শরীর ভালো থাকে এবং মনটা ফুরফুরা হয়। তরুণ বয়সটাই তো ভাই এমন। এজন্যই তরুণরা আমার ওপর ক্রাশ খাচ্ছে, আর আমিও কিন্তু তরুণদের ওপর ক্রাশ হই!” তাঁর এমন সাবলীল ও রসিকতাপূর্ণ বক্তব্যে পুরো নির্বাচনী এলাকায় যেমন হাসির রোল পড়েছে, তেমনি তরুণ প্রজন্মের মাঝে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। নেটিজেনদের মতে, গতানুগতিক রাজনৈতিক বক্তৃতার বাইরে এমন মজার কথা ভোটারদের নজর কাড়তে বেশ কার্যকর হচ্ছে।
এর আগে রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় গণসংযোগের সময় ভোটারদের কাছে এক বিচিত্র আবদার করেছিলেন তিনি। তরুণদের বেকারত্ব ও বিয়ের সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “অনেক ভাই আমাকে বলছেন তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করতে। আমি বলছি, আমাকে একটা করে ভোট দিন। বিজয়ী হলে আপনাদের বিয়ের পথ সহজ করে দেব। এবার বিয়ের উপহার হিসেবেই না হয় আমাকে একটি ভোট দিন।” ১০ জন প্রার্থীর ভিড়ে একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আশা মণি তাঁর এই ‘খোলামেলা’ প্রচারণার মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
যদিও আগের নির্বাচনে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল নগণ্য, তবে দমে যাননি তিনি। তাঁর এই লড়াকু মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। সমাজকর্মী আম্বিয়া খাতুন জানান, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে দাঁড়িয়ে একজন নারীর এভাবে সাহসের সঙ্গে লড়াই করা এবং নিজস্ব ভঙ্গিতে কথা বলা নারী ক্ষমতায়নেরই বহিঃপ্রকাশ। ভোটারদের একাংশ মনে করছেন, প্রচারণার এই আধুনিক ও মজাদার ধরন ভোটের বাক্সে কোনো চমক দেখায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
















