নোয়াখালীর কবিরহাটে তেলবাহী লরির ধাক্কায় মোটরসাইকেল দুমড়েমুচড়ে একটি দোকানে ঢুকে পড়ার ঘটনায় শফিকুর রহমান (৬২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কবিরহাট-সোনাপুর সড়কের বানদত্ত ট্রান্সমিটার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শফিকুর রহমানের দুই ছেলেসহ আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে শফিকুর রহমান তাঁর দুই ছেলে আবদুস সালাম ও সাইদুর রহমানকে নিয়ে নিজেদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এসময় সোনাপুর থেকে আসা ‘যমুনা’ গ্রুপের একটি তেলবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে তাদের মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয় এবং পরে পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই শফিকুর রহমানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ধাওয়া করে লরিচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা কবিরহাট-সোনাপুর সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
বিক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কটির আধুনিকায়ন হলেও জনবহুল এই এলাকায় কোনো স্পিডব্রেকার বা গতিরোধক স্থাপন করেনি সড়ক বিভাগ। অথচ এখানে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্পিডব্রেকার বা ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ঘাতক লরিটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 














