ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
কিচেন ক্যাবিনেট ও বহিরাগত স্নাইপার নিয়ে বিস্ফোরক সাবেক উপদেষ্টা।

‘উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে হতো বড় সিদ্ধান্ত’- সাখাওয়াত হোসেন

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং পর্দার আড়ালের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ২৭ জনের উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই বাইরে থেকে নির্ধারিত হয়ে যেত। ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই খোলামেলা বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ সময় নির্বাচন কমিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তাঁর কাছ থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো পরামর্শ নেয়নি। তিনি বলেন, “আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না। সরকারের ভেতর একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ছিল যারা নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল।” ড. সাখাওয়াতের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সরকারের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা মহলের অস্তিত্ব ছিল, যারা মূল কলকাঠি নাড়তেন।

 

সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে ২০২৪ সালের আগস্টের উত্তাল দিনগুলোর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে তিনি পুলিশের ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেলের ব্যবহার নিয়ে তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না।” তাঁর আশঙ্কা, সেই স্নাইপাররা সম্ভবত ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে এই তদন্ত শুরুর আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

এম সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, “আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।” তবে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি নৌ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অজানা অধ্যায়গুলো জনসমক্ষে আনলেন।

 

সূত্র: চ্যানেল ওয়ানে প্রদত্ত সাক্ষাৎকার

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

কিচেন ক্যাবিনেট ও বহিরাগত স্নাইপার নিয়ে বিস্ফোরক সাবেক উপদেষ্টা।

‘উপদেষ্টা পরিষদের বাইরে হতো বড় সিদ্ধান্ত’- সাখাওয়াত হোসেন

Update Time : ০১:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং পর্দার আড়ালের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ২৭ জনের উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনার আগেই বাইরে থেকে নির্ধারিত হয়ে যেত। ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই খোলামেলা বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার আক্ষেপ করে জানান, দীর্ঘ সময় নির্বাচন কমিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তাঁর কাছ থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো পরামর্শ নেয়নি। তিনি বলেন, “আমি তাদের কনসালট্যান্ট ছিলাম না। সরকারের ভেতর একটি নির্দিষ্ট পক্ষ ছিল যারা নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে চেয়েছিল।” ড. সাখাওয়াতের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সরকারের ভেতরে একটি প্রভাবশালী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা মহলের অস্তিত্ব ছিল, যারা মূল কলকাঠি নাড়তেন।

 

সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে ২০২৪ সালের আগস্টের উত্তাল দিনগুলোর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে তিনি পুলিশের ‘সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু’ বোরের রাইফেলের ব্যবহার নিয়ে তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ভিডিওতে দেখেছি লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ব্যক্তিদের হাতে পুলিশের রাইফেল। এমনকি হেলিকপ্টারে থাকা স্নাইপারদের অনেকের শারীরিক গঠন আমাদের দেশের মানুষের মতো ছিল না।” তাঁর আশঙ্কা, সেই স্নাইপাররা সম্ভবত ‘বহিরাগত’ ছিল। তবে এই তদন্ত শুরুর আগেই মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

 

এম সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত-আট দিনের মাথায় তিনি পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তিনি সরাসরি বলেছিলেন, “আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না, থাকলে আপনিও বিব্রত হবেন।” তবে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি নৌ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিনি তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অজানা অধ্যায়গুলো জনসমক্ষে আনলেন।

 

সূত্র: চ্যানেল ওয়ানে প্রদত্ত সাক্ষাৎকার