সংগৃহীত ছবি
বগুড়ার আদমদীঘিতে ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী আন্তঃনগর ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের বাগবাড়ী এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ট্রেনের অন্তত ৫০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে চলা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাগবাড়ী এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই ইঞ্জিনের পেছনের ৬টি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের নিচু জমিতে ও লাইনের ওপর উল্টে পড়ে। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে ধুলোবালি ও যাত্রীদের আর্তচিৎকারে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে আদমদীঘি ও আশপাশের ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের পাশাপাশি ছাদেও বিপুল সংখ্যক যাত্রী অবস্থান করছিলেন, যার ফলে আহতের সংখ্যা অনেক বেশি হয়েছে।
আতঙ্কিত যাত্রীদের বক্তব্য
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী জানান, “ট্রেনটি বেশ দ্রুত চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে বগিগুলো দুলতে শুরু করে এবং আমরা ছিটকে পড়ি। চোখের সামনে অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছি।” রেললাইনের ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
রেল যোগাযোগ ও বর্তমান অবস্থা
এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনের ওপর বগিগুলো পড়ে থাকায় সান্তাহার, বীরগঞ্জ ও চিলাহাটি অভিমুখী ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন (উদ্ধারকারী যান) দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তবে ৬টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় লাইন সচল করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। নাশকতা নাকি কারিগরি ত্রুটি—সব দিক বিবেচনা করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


























