সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও বন্দিজীবন শেষে অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। আজ বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পান। তার মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সাবেক মেয়রের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, বিকেলের দিকে উচ্চ আদালতের জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনি নথিপত্র কাশিমপুর কারাকর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এরপর কারাগারের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় দাপ্তরিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে রাত ১০টায় ডা. আইভীকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাফটকে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা তার পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয় এবং আইনজীবীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। মুক্তি পাওয়ার পরপরই আইভী ও তার পরিবার ঢাকার উপকণ্ঠ গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের নিজ বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন।
আইনজীবীদের সূত্রমতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে একের পর এক মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে এই সবকটি মামলায় তার জামিন বহাল থাকায় শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির পথ সুগম হয়। এর আগে গত ১০ মে ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে, গত ১৭ মে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে ডা. আইভীর জামিন বহাল রাখার চূড়ান্ত আদেশ দেন।
অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আপিল বিভাগের সবকটি আদেশ নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর পর আমরা জামিন কার্যকরের আবেদন জানাই। আদালত তা মঞ্জুর করলেও পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির কারণে কারাগার পর্যন্ত নথিপত্র পৌঁছাতে কিছুটা সময় লেগে যায়। সব আইনি বাধা কেটে যাওয়ায় আজ তিনি মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে পারছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, ডা. আইভী এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার বিরুদ্ধে তার আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন এবং আগামীতে আবারও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে। পদ হারানোর পরও তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে অবস্থিত তার পৈতৃক বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে বিশাল পুলিশ বাহিনী তার বাড়ি ঘেরাও করলে হাজারো সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে প্রায় ৬ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা শেষে ৯ মে ভোরে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র এবং দেশের প্রথম নারী সিটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক 














