সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেওয়া বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, বৈদেশিক চুক্তি এবং সম্ভাব্য দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ ‘ট্রানজিশন টিম’ বা উত্তরণকালীন দল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু: অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষকমিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন। ড. দেবপ্রিয় বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্পাদিত বৈদেশিক ক্রয় ও চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি, কারণ এগুলোর অনেক বিষয় এখনও জনসমক্ষে আসেনি এবং এর ফলে নতুন সরকারের ওপর কী ধরনের দায় বর্তাচ্ছে তা স্পষ্ট নয়।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে, এই ট্রানজিশন টিম সরকারি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হওয়া উচিত, যারা প্রয়োজনে ফরেনসিক তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে। এই টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি ‘ব্লু বুক’ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা সরকারের বর্তমান দায়–দেনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সহায়ক হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে সাধারণত মন্ত্রিসভা গঠনের আগেই এ ধরনের কাজ শুরু করা হয় এবং দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এটি সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে বিগত সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
একই অনুষ্ঠানে সামষ্টিক অর্থনীতির বেঞ্চমার্ক শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি তিনটি ‘বাধ্যতামূলক সংকটে’র মুখে রয়েছে– নাজুক সামষ্টিক স্থিতিশীলতা, দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগ ও সংকুচিত রাজস্ব পরিসর। এই চাপ মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের জন্য দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সংশোধিত বাজেট প্রণয়ন এবং কঠোর ‘মিতব্যয়ী নীতি’ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প স্থগিত রেখে চলমান ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেয় সংগঠনটি।
সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষণে বলা হয়, নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত ২০৩৫ সালের মধ্যে কর–জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা বা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের মতো লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। শক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া এসব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই উচ্চ ব্যয়সাপেক্ষ প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে ২০২৭ সাল থেকে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাই সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 
























