যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির কঠোর প্রয়োগের ইঙ্গিত এবং অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করায় প্রবাসীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর যারা পরিবারের সদস্যদের গ্রিনকার্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পরিকল্পনা করছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সেই স্বপ্ন এখন হুমকির মুখে। বিশেষ করে ২০ জানুয়ারির পর থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ ও কনস্যুলার প্রসেসিং স্থগিত থাকায় অনেক আবেদনকারী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই বিধির মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী কোনো অভিবাসী যেন সরকারি সহায়তার (Social Benefits) ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন। যদি সরকার মনে করে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে করদাতাদের ওপর আর্থিক বোঝা হতে পারেন, তবে তাঁর ভিসা বাতিল হতে পারে। ফলে যারা আগে সরকারি সুবিধা নিয়েছেন বা বর্তমানে নিচ্ছেন, তাদের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পন্সর করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ তাদের বাবা-মা, ভাই-বোন বা জীবনসঙ্গীর জন্য আবেদন করে রেখেছেন। এর মধ্যে যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল, তাদের ঝুঁকি কিছুটা কম হলেও যারা নিম্ন আয়ের বা সরকারি সুবিধাভোগী, তারা আইনি জটিলতা ও জরিমানার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অভিবাসন আইনজীবীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। তবে ভিসা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল স্থগিত থাকলে অনেক আবেদনকারীর বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়া বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

















