সংগৃহীত ছবি
সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘরোয়া ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরুতে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ‘ডিপফেক’ ভিডিও বলে দাবি করেছিলেন। তবে ব্যাপক সমালোচনা ও গুঞ্জনের মুখে মঙ্গলবার সংসদ সদস্য নিজেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি সেখানে দাবি করেছেন, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং এটি তাদের একটি পারিবারিক ষড়যন্ত্র ও চাঁদাবাজির শিকার হওয়ার ঘটনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও অংশে দেখা যায়, একটি কক্ষের ভেতর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং ওই নারী একসাথে অবস্থান করছেন এবং অত্যন্ত ঘরোয়া মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার ঝড় ওঠে। এ বিষয়ে সত্যতা ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানার জন্য এমপি গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ব্যাখ্যায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়াম বেগমকে নিয়ে ঢাকার মগবাজারে শ্বশুর মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে গিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ গাড়ি দেখার বাহানায় বাইরে গিয়ে কয়েকজন অচেনা ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর তারা জিম্মি করে ১ লাখ টাকা আদায় করে এবং গাড়ি আটকে রেখে দফায় দফায় আরও কয়েক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় পরবর্তীতে গোপনে ধারণ করা স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য তার পোস্টে আরও দাবি করেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার সাথে ওবায়দুল্লাহর পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই ব্লেকমেইল ও ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও কিছু অসাধু ব্যক্তি একে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক হিসেবে প্রচার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতিতে এবং পারিবারিকভাবে মরিয়াম বেগমের সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ, চরিত্র হনন ও ব্লেকমেইলিংয়ের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার এই সংসদ সদস্য।














