সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বরিশাল যাওয়ার পথে তার গাড়িবহরের একটি গাড়ির সামনে ইটের টুকরা এসে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে প্রধানমন্ত্রীর বহর লক্ষ্য করে ‘ইট নিক্ষেপের’ দাবি উঠলেও, দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে— প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই ঘটেনি। পুলিশের দাবি, বহরের সামনে থাকা অন্য একটি গাড়ির চাকা থেকে অসাবধানতাবশত ছিটকে আসা ইটের টুকরোটি পেছনের গাড়ির সামনে এসে পড়েছিল, যা ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের সাধুর ব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাসের সামনে ও পেছনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় রেখে বেশ কয়েকটি প্রটোকল গাড়ি চলছিল। এ সময় মহাসড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন এবং বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দিচ্ছিলেন তারেক রহমান। ঠিক ওই মুহূর্তে বহরের বাসের পেছনে থাকা তৃতীয় গাড়িটির উইন্ডশিল্ডের সামনে একটি ইটের টুকরো উড়ে এসে পড়তে দেখা যায়।
এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পরপরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, “ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই জেলা পুলিশ, র্যাব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে। তবে মাঠপর্যায়ের তদন্ত ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শেষে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গাড়িবহর লক্ষ্য করে কোনো ধরনের ঢিল বা ইট ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেনি। ভিডিওতে দৃশ্যমান ইটের টুকরোটি মূলত বহরের সামনে গতিশীল থাকা একটি গাড়ির চাকার ঘূর্ণনের গতিতে রাস্তা থেকে ছিটকে পেছনে এসে পড়েছিল।”
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সকাল ১০টার কিছু আগে তিনি বরিশালের গৌরনদীর বাটাজোরে পৌঁছান। সেখানে দিনভর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি পুনরায় সড়কপথে বরিশালের সীমানা ত্যাগ করেন। পুলিশের তাৎক্ষণিক তদন্ত ও স্পষ্ট বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এই রাজনৈতিক গুজবটির দ্রুত অবসান ঘটল।














