সংগৃহীত ছবি
টানা ভারী বর্ষণ ও সীমান্ত ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের দাপট কমে আসায় শেরপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলার সবকটি প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ঢলের পানি নেমে গেলেও বিভিন্ন নিচু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার দেখা মিলেছে। বন্যায় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এই মুহূর্তে কোনো প্রধান আবাদ না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেলেও, অনেক স্থানে শাকসবজির খেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালি নদীর পানি বাতকুচি পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে ৩৭০ সেন্টিমিটার ও নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ২৩৭ সেন্টিমিটার এবং সদর উপজেলার পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩৭১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঝিনাইগাতী ও সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপদসীমার বেশ নিচে রয়েছে। তবে গত বুধ ও বৃহস্পতিবারের ঢলে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের গোল্লারপাড় এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে যাওয়ায় ওই রুটে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ধসে যাওয়া সড়কটি সোমবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী জানান, গাজীরখামার সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ভাঙন ঠেকাতে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ৫০০ জিও ব্যাগ ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তবে সড়কটি স্থায়ীভাবে মেরামতের মূল দায়িত্ব এলজিইডির। এছাড়া জেলার অন্য কোনো নদীর বাঁধে নতুন করে ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
এদিকে বন্যাদুর্গত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। শ্রীবরদী উপজেলার খড়িয়া কাজিরচর ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নিতে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ২৫টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও ২০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।” সহায়তা বিতরণকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আরিফা সিদ্দিকা ও শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
















