ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেলেন মির্জা ফখরুল

স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কি অংশ নিতে পারবে?

সংগৃহীত ছবি

 

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা সরকারের কাছে স্পষ্ট করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

 

একই সাথে দেশের ঝুলে থাকা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঠিক কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে—তাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান তিনি। আজ সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রশ্ন ও ক্ষোভ উত্থাপন করেন।

 

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এই সুনির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়টি চতুরতার সাথে এড়িয়ে যান। তবে তিনি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি পুরো দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারি যে, যথাসময়ে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই অনুযায়ীই আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারব বলে দৃঢ়ভাবে আশা করি।”

 

 

এর আগে আলোচনার শুরুতে বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে দেখেছি যে, ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রশাসকরা সবাই সম্পূর্ণ দলীয়ভাবে মনোনীত ব্যক্তি। অথচ দেশের এই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ২০১৪ সাল থেকে আরম্ভ করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাসের মতো সময় পার হয়ে গেছে, এরপরও মাঠপর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা দৃশ্যমান কোনো রোডম্যাপ বা ঘোষণা জানতে পারি নাই।”

 

 

সংবিধানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের পুরো শাসনব্যবস্থা একমাত্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ পাওয়া আমলা ও মনোনীত প্রশাসকদের অধীনে পুরো জেলা-উপজেলাগুলো শাসিত হচ্ছে—যা দেশের পবিত্র সংবিধানের মূল ভাবধারার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”

 

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে কবে হবে? সেই নির্বাচনে কখনো আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে শুনতে পাচ্ছি কেউ বলছেন—নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে অংশ নিতে পারবে, আবার কেউ বলছেন পারবে না। কেউ কেউ আবার বলছেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই ছদ্মবেশে যাদের ক্লিন ইমেজ আছে তারা স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে পারবেন। এই বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আজ সংসদে পরিষ্কার করতেন, তাহলে জনগণের যেমন বুঝতে সুবিধা হতো, ঠিক তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে যারা তৃণমূলের রাজনীতি করেন, তাদের জন্যও সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হতো।” মন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত উত্তরের পর এই নিয়ে সংসদ অধিবেশনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

সংসদে রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেলেন মির্জা ফখরুল

স্থানীয় নির্বাচনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কি অংশ নিতে পারবে?

Update Time : ১০:১৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন কি না, তা সরকারের কাছে স্পষ্ট করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

 

একই সাথে দেশের ঝুলে থাকা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঠিক কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হবে—তাও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে জানতে চান তিনি। আজ সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই প্রশ্ন ও ক্ষোভ উত্থাপন করেন।

 

 

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এই সুনির্দিষ্ট ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়টি চতুরতার সাথে এড়িয়ে যান। তবে তিনি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সংসদকে আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আমি পুরো দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারি যে, যথাসময়ে সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি, সেই অনুযায়ীই আমরা যথাসময়ে নির্বাচন করতে পারব বলে দৃঢ়ভাবে আশা করি।”

 

 

এর আগে আলোচনার শুরুতে বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে দেখেছি যে, ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এই প্রশাসকরা সবাই সম্পূর্ণ দলীয়ভাবে মনোনীত ব্যক্তি। অথচ দেশের এই গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ২০১৪ সাল থেকে আরম্ভ করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রক্তক্ষয়ী লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাসের মতো সময় পার হয়ে গেছে, এরপরও মাঠপর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা দৃশ্যমান কোনো রোডম্যাপ বা ঘোষণা জানতে পারি নাই।”

 

 

সংবিধানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ের পুরো শাসনব্যবস্থা একমাত্র স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা বর্তমানে দেখতে পাচ্ছি এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ পাওয়া আমলা ও মনোনীত প্রশাসকদের অধীনে পুরো জেলা-উপজেলাগুলো শাসিত হচ্ছে—যা দেশের পবিত্র সংবিধানের মূল ভাবধারার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।”

 

 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে রুমিন ফারহানা বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে কবে হবে? সেই নির্বাচনে কখনো আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে শুনতে পাচ্ছি কেউ বলছেন—নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে অংশ নিতে পারবে, আবার কেউ বলছেন পারবে না। কেউ কেউ আবার বলছেন, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই ছদ্মবেশে যাদের ক্লিন ইমেজ আছে তারা স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে পারবেন। এই বিভ্রান্তিকর বিষয়গুলো যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আজ সংসদে পরিষ্কার করতেন, তাহলে জনগণের যেমন বুঝতে সুবিধা হতো, ঠিক তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে যারা তৃণমূলের রাজনীতি করেন, তাদের জন্যও সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হতো।” মন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত উত্তরের পর এই নিয়ে সংসদ অধিবেশনে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।