সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিশুদের মাঝে হামের প্রকোপ ও উপসর্গজনিত মৃত্যু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৭৪ দিনে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা মোট ৪৩টি শিশু প্রাণ হারাল। আজ শনিবার (৩০ মে) সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা নিরলস চেষ্টা চালালেও মমেক হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩৮টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ১১৬টি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত এই ৭৪ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মমেক হাসপাতালে সর্বমোট ১ হাজার ৭০৮টি শিশু চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ১ হাজার ৫৪৯টি শিশু এবং একই সময়ে মারা গেছে ৪৩ জন।
হাসপাতাল সূত্রে সর্বশেষ মৃত দুই শিশুর পরিচয় ও বিবরণ জানা গেছে। এদের মধ্যে একজন কিশোরগঞ্জ জেলার গাবতলী বাজার এলাকার বাসিন্দা চার মাস বয়সী এক ছেলে শিশু। সে গত ২২ মে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৯ মে সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। অপর মৃত শিশুটি ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকার বাসিন্দা; যার বয়স মাত্র তিন মাস ১৫ দিন। এই ছেলে শিশুটি গত ২৫ মে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে।
মমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ও শিশু রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও সংক্রামক ব্যাধি। অসচেতনতার কারণে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে সহজে আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না। তবে আশার কথা হলো, সরকারি উদ্যোগে শিশুদের শরীরে হামের টিকার (Vaccine) কার্যকারিতা শুরু হওয়ায় নতুন করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশা করছি, মাঠপর্যায়ে টিকার আওতা বাড়লে ধীরে ধীরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দুই-ই কমে আসবে।” তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় অভিভাবকদের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও যেকোনো উপসর্গে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 














