বোরো ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রদল। সংগৃহীত ছবি
রাজনীতি যখন কেবল ক্ষমতার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হয়, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদল। উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তারাকান্দর বিলে এক অসহায় বিধবা নারীর পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলার তারাকান্দর বিলে গিয়ে মৃত প্রতাপ চন্দ্র বৈদ্যের স্ত্রী ঊর্মিলা বৈদ্যের প্রায় এক বিঘা জমির ধান কাটার এই কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে এলাকায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন ঊর্মিলা বৈদ্য। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে জমির ধান পেকে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলেও শ্রমিকের অভাবে তা ঘরে তুলতে পারছিলেন না তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যক্তির অবর্তমানে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসে উপজেলা ছাত্রদল। সংগঠনের আহ্বায়ক লালন শেখ ও সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফার নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী কাস্তে হাতে মাঠে নামেন এবং কয়েক ঘণ্টার পরিশ্রমে পুরো জমির ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এই মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার হাওলাদার এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মান্নান শেখসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। ধান কাটার পর তা ঘরে তুলে দেওয়ায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ঊর্মিলা বৈদ্য। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “কয়েক দিন ধরে ধান পেকে নষ্ট হওয়ার পথে ছিল, কিন্তু অনেক খুঁজেও আমি কোনো শ্রমিক পাচ্ছিলাম না। টাকা থাকলেও আজ শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর। ছাত্রদলের ছেলেরা এসে যেভাবে আমার ধানগুলো কেটে বাড়িতে তুলে দিল, আমি তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।”
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য মেহেদী খান তাঁর মতামত ব্যক্ত করে বলেন, “ছাত্রদলের মূল আদর্শই হলো জনগণের সেবা করা। আমরা যখন শুনলাম একজন বিধবা মা তাঁর পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন, তখন আমরা আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের সুখে–দুঃখে পাশে থাকাই আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই সামান্য কাজের মাধ্যমে যদি একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তবেই আমাদের রাজনীতি সার্থক। এই ধরণের জনহিতকর কার্যক্রম আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখব।”
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ জানান, বর্তমানে অনেক কৃষকই শ্রমিক সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা পরিবারের পুরুষ সদস্য নেই, তাদের জন্য ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রদল সবসময় এই ধরণের অসহায় পরিবারগুলোর পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে। স্থানীয় এলাকাবাসীও ছাত্রদলের এই ব্যতিক্রমী ও কল্যাণমূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক 














